রহিমা অপহরণ মামলা

মরিয়মসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিবিআইয়ের সুপারিশ

খুলনা প্রতিনিধি
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:৪৯আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:৫৪

খুলনার রহিমা বেগম অপহরণ মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে পরিকল্পিতভাবে এ নাটক করার জন্য রহিমা এবং তার দুই মেয়ে মরিয়ম মান্নান ও আদুরী আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতে সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহানগর হাকিমের আদালতে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআই পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।

এ বিষয়টি নিয়ে খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার (এসপি) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, ‘মূলত জমি রক্ষার জন্য মরিয়ম মান্নানের পরিকল্পনায় তার মা রহিমা বেগম আত্মগোপন করেন। আর মরিয়মের বোন আদুরী থানায় অপহরণ মামলা করেন।’

এসপি বলেন, ‘রহিমা বেগম আব্দুল মান্নানের তৃতীয় স্ত্রী। এখানকার জমির দখল রাখতেই এই পরিকল্পনা করা হয়। এ পরিকল্পনার আগে রহিমা তার বর্তমান স্বামী বেল্লাল ঘটককে বলেছিল, রহিমা তিন-চার মাস এখানে না থাকলে তার কোনও অসুবিধা হবে কিনা। এ কারণে বেল্লাল ঘটক এ ঘটনার সাক্ষী। আর আত্মগোপনে যাওয়ার আগে মরিয়ম মান্নানই রহিমাকে বিকাশে ১০০০ টাকা পাঠান। আর ফরিদপুর থেকে বান্দরবান যাওয়ার পথে রহিমাকে ঢাকা থেকে কিছু কাপড় পাঠান। যা জিজ্ঞাসাবাদে রহিমা প্রথমে স্বীকার করলেও পরে তা ঘোরাতে চেষ্টা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই কর্মকর্তারা তিনি আরও বলেন, ‘প্রেস ব্রিফিংয়ের আগেই আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ওই রিপোর্টেই তিন জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতে সুপারিশ করা হয়েছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে আত্মগোপন রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। রহিমা বেগম অপহরণের পরিকল্পনা মরিয়ম মান্নানই করেছিলেন। এ জন্য মরিয়ম তার মাকে বিকাশে টাকা পাঠিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বণিকপাড়া থেকে রহিমা বেগম নিখোঁজ হন বলে মরিয়ম মান্নান ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রচার করেন। ২৭ আগস্ট রাত সোয়া ২টার দৌলতপুর থানায় মায়ের অপহরণ হওয়ার কথা উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রহিমার ছেলে মিরাজ আল সাদী। পরে মাকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে ২৮ আগস্টে দৌলতপুর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন রহিমার মেয়ে আদুরী আক্তার। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মরিয়ম নিজের ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেন মায়ের লাশ পেয়েছেন। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর ফুলপুর থানায় গিয়ে লিখিত দেন ওই লাশ তার মায়ের। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে মরিয়মের ডিএনএ টেস্ট করেছিল পুলিশ। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর থেকে রহিমাকে উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে রহিমা বেগম মেয়ে আদুরী আক্তারের জিম্মায় খুলনা শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন:

/এমএএ/
সম্পর্কিত
ধর্ষণের শিকার শিশু ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, থানায় মামলা
সাত মামলায় ডা. দীপু মনির জামিন আবেদন
আমার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে: আমির হামজা
সর্বশেষ খবর
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
মৌমাছির রানি হয়ে ওঠার রহস্য কী
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম