বিএনপির নেতৃত্বে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোটসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে লাগাতার বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। তারা পরস্পর বৈঠক করছে। লিয়াজোঁ কমিটিও রয়েছে তাদের। তবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রংপুরসহ বিভাগের আট জেলায় এইসব দলের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়। এমনকি স্থানীয়ভাবে বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনও যোগাযোগ নেই। শুধু তাই নয়, এই সব দলের নেতাদের কাউকে চেনেন না বলে একাধিক বিএনপি নেতা জানিয়েছেন। রংপুরে ওই সব দল বা জোটের কোনও অস্তিত্ব বা কর্মকাণ্ড নেই বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন।
বিএনপির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিভিন্ন জোট বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে সারা দেশে আন্দোলন করলেও রংপুর বিভাগে তাদের কারও সঙ্গে বিএনপির কোনও যোগাযোগ নেই। এ ব্যাপারে ওই সব দলের সঙ্গে সমন্বয় সভা বা লিয়াজোঁ করার কোনও নির্দেশনা তারা পাননি বলে জানান তিনি। তবে জেলা পর্যায়ের বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ওই সব দলের যোগাযোগ বা লিয়াজোঁ রয়েছে কিনা তা জেলা বা মহানগর বিএনপির নেতারা বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামুর জানান, গণতন্ত্র মঞ্চসহ অন্যান্য জোটের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ তেমন নেই। তবে বেশ কিছুদিন আগে কল্যাণ পার্টিসহ কয়েকটি দলের কয়েকজন নেতা তাদের অফিসে এসে কথা বলেছেন। কারা কারা ছিলেন জানতে চাইলে তিনি কারও নাম বলতে পারেননি। বিএনপি লাগাতার কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করে আসলেও ওইসব দল নিজেদের মতো করে কর্মসূচি পালন করে বলে শুনেছেন বলে জানান তিনি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এবং বিএনপির ১০ দফা কর্মসূচি সমর্থন করে যেসব দল বা জোট আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় মাস আগে গণতন্ত্র মঞ্চসহ কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আবারও আলোচনা হবে। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি।’
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা ও মহানগর বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ‘ঢাকায় গণতন্ত্রমঞ্চসহ বেশ কয়েকটি জোট বিএনপির সঙ্গে লিয়াজোঁ করে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও রংপুরে ওই সব দলের কোনও কর্মকাণ্ড নেই। তাদের নেতা কারা তা আমরা জানি না। এমনকি রংপুর বিভাগের বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। তবে জাসদ (রব), গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য এবং গণঅধিকার পরিষদের ১০-১২ জন নেতাকর্মী গণতন্ত্র মঞ্চের নামে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন। সব মিলিয়ে তাদের ১৫ জনের বেশি নেতাকর্মী দেখা যায়নি।’
এ ব্যাপারে নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা মোবাখ্খারুল ইসলাম জানান, রংপুরে তাদের একটি আহ্বায়ক কমিটি আছে। এখনও তাদের কর্মকাণ্ড তেমন দৃশ্যমান না হলেও খুব দ্রুত তারা রংপুরে বড় পরিসরে শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেএসডি (রব) জেলা সভাপতি আমিনুল ইসলাম বিএসসি তাদের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি থাকার কথা বললেও ৩-৪ জনের বেশি নাম বলতে পারেননি তিনি। এমনকি গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোর কোনও কার্যালয় নেই বলেও স্বীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে, কল্যাণ পার্টিসহ ১২ দলীয় জোট ঢাকায় বিভিন্ন মানববন্ধন আর সমাবেশ করার কথা গণমাধ্যমে আসলেও রংপুর বিভাগে এই জোটের কোনও দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড নেই। একইভাবে এলডিপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এনপিপি, সমমনা পেশাজীবী জোট, গণফোরামসহ বিভিন্ন দলেরও একই অবস্থা। তাদের দলের কথা কাগজ-কলমে, বাস্তবে নেই বললেই চলে।
তবে সিপিবি, বাসদসহ বামজোটের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান। তারা জোটের সব কর্মসূচি পালন করে। তাদের দলীয় কার্যালয় এবং শক্তিশালী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আছে।
বিরোধীদের আন্দোলন ও কর্মসূচির ব্যাপারে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, ‘বিএনপির কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে জনগণের কোনও সমর্থন নেই। তারা বিভিন্ন কর্মসূচি উপজেলা পর্যায় থেকে লোক ভাড়া করে নিয়ে আসে। তাদের অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি মূলত দল ভারি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণ তাদের সঙ্গে নেই।’ যেসব জোটের কথা বলা হয়, সেসব দল সাইনবোর্ড সর্বস্ব, রংপুরে তাদের অস্তিত্ব নেই বলে জানান তিনি।








