বরিশাল-ঢাকা নৌপথে চলন্ত লঞ্চ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার দুই দিন পর জেলেদের জাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রিফাত মাহমুদের লাশ। সোমবার (১০ এপ্রিল) সকাল ৭টায় উদ্ধারের পর লাশ নিয়ে আসা হয় নগরীর সদর রোডের বাসভবনে।
গভীর রাতে লঞ্চ থেকে যুবকের ঝাঁপ
রিফাত নগরীর কালিবাড়ি রোডের বাসিন্দা শেখ আসলাম মাহমুদের ছেলে এবং সরকারি বিএম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে চাকরির উদ্দেশ্যে ঢাকায় যাচ্ছিল।
রিফাতের মামা সাগর উদ্দিন মন্টি জানিয়েছেন, আজ সকাল ৭টায় বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে থাকা এক জেলে ফোনে জানান, তাদের জালে একটি লাশ পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে স্পিডবোটে সেখানে গিয়ে দেখা যায় রিফাতের লাশ।
মন্টি জানান, এ ঘটনার পর গতকাল রবিবার রিফাতের বাসায় আসে তার প্রেমিকা। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বলে জানায়। নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার আগে সর্বশেষ তার সঙ্গে কথা হয় রিফাতের। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে, তখন সে জানিয়েছে বিয়ে নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতন্ডা হয়। এ সময় সে (প্রেমিকা) রাগান্বিত হয়ে কথা বলে।
মন্টিসহ রিফাতের পরিবারের ধারণা, প্রেমিকার সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় রিফাত। তবে এ বিষয়ে তারা কোনও আইনি লড়াইতে যাবেন না বলে জানিয়েছেন তার বাবা শেখ আসলাম।
এদিকে, আজ জোহরের নামাজ শেষে নগরীর সদর রোডে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে রিফাতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
গত শুক্রবার রাতে শুভরাজ-৯ নামে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন রিফাত। পরদিন তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্ধান চাওয়া হয়। তখন রিফাতের বন্ধুরা ঢাকা সদরঘাটে থাকা শুভরাজ-৯ লঞ্চ থেকে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ বের করলে তাতে দেখা যায় কেবিনের বারান্দার রেলিং দিয়ে ঝাঁপ দিচ্ছেন তিনি। ঝাঁপ দেওয়ার স্থান চিহ্নিত করে গতকাল থেকে সেখানে সন্ধান চালালেও রিফাতের কোনও সন্ধান মেলেনি। আজ জেলেদের জালে মিললো তার লাশ।









