কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির একটি প্রকল্প অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি প্লাস) শ্রমিকদের দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গঙ্গাদাস গ্রামের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের সড়ক সংস্কারে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল ঘুরে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান বলছেন, ‘এক প্রকল্পের কাজ আরেক প্রকল্প দিয়ে বাস্তবায়ন করার সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে কাবিটা প্রকল্প থেকে ওই কাজ বাতিল করা হবে।’
পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেলগাছা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গঙ্গাদাস মৌজার এরশাদের বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তা থেকে আবাসন প্রকল্পগামী রাস্তা সংস্কার কাজটি গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির আওতাভুক্ত। রাস্তাটি সংস্কারে প্রকল্পে দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইজিপিপি প্রকল্পে ওই রাস্তা সংস্কারে কোনও বরাদ্দ নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করছেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি সংস্কারে নিযুক্ত ইজিপিপি প্রকল্পের শ্রমিকরা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু করে পরবর্তী আড়াই-তিন ঘণ্টা কাজ করেন। এরপর তারা বিশ্রাম নেন। দুপুর ২টা বাজতেই শ্রমিকরা সব সরঞ্জাম গুটিয়ে বাড়িতে চলে যান।
সরেজমিন গঙ্গাদাস গ্রামে দেখা গেছে, ওই গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পগামী সড়কটিতে শ্রমিকরা মাটি কাটার কাজ করছেন। কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ইজিপিপি প্রকল্পের ১১০ দিনের মাটি কাটা কর্মসূচির আওতার তারা ৩৭ জন শ্রমিক একমাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা সড়কটিতে মাটি কাটার কাজ করছেন। এর বেশি কিছু তারা জানেন না।
রাস্তাটি সংস্কারে অংশ নেওয়া শ্রমিক আব্দুল খালেক, জ্যোৎস্না বেগম ও বিজলিসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, তারা ১১০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিক। চেয়ারম্যান তাদের ওই রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করতে বলছেন। তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন।
পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইজিপিপি প্রকল্পে কাজ করা শ্রমিকদের ঈদুল ফিতরের আগে ৩২ দিনের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
এই কাজের বিষয়ে জানতে ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাসেদুল হাসান বলেন, ‘এভাবে এক প্রকল্প দিয়ে আরেক প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছি। কাবিটার টাকা এখনও ছাড় দেওয়া হয়নি। এমন হয়ে থাকলে ওই কাজে বরাদ্দের টাকা দেওয়া হবে না।’









