পটুয়াখালীতে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মামলা দুটি করা হয়। দুটি মামলায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ৪৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে সাড়ে চার শতাধিক আসামি করা হয়েছে।
রবিবার (২১ মে) দুপুরে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ২৫০ জন অজ্ঞাত বিএনপি নেতাকর্মীর নামে আরেকটি মামলা করেন। একই সময়ে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী মো. রায়হান হোসেন বাদী হয়ে ২৯ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে মো. রায়হান হোসেন উল্লেখ করেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ চত্বর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে যোগদানের জন্য রওনা দেন নেতাকর্মীরা। তিতাস মোড় এলাকায় যাওয়ার পথে কলেজ রোড এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন মামলায় উল্লেখ করেছেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে যাওয়ার পথে পৌর এলাকা অতিক্রমের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় তাদের বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হন। পরে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
মামলার প্রধান আসামি জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে জনসমাবেশ করছিলাম। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পণ্ড করে দেয়। আমাদের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। এ হামলায় বিএনপির অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহত নেতাকর্মীরা এখনো অনেকে চিকিৎসাধীন। বিএনপির কোনও নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করে নাই। অথচ আমাদের নামেই মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
পটুয়াখালী সদর থানার ওসি তদন্ত আশাদুর রহমান বলেন, ‘শনিবার কলেজ রোডে দুই দলের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’








