রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন বুধবার (২১ জুন)। এ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আনিসুর রহমান বলেছেন, ‘শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অতীতের যেকোনও নির্বাচনের চেয়ে এবারের রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন হবে একটি মডেল স্বরূপ। ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করার কোনও সুযোগ নেই। বাংলাদেশ পুলিশ এখন স্মার্ট পুলিশ। আগামীকাল (বুধবার) নির্বাচনে এর প্রতিফলন ঘটাবে।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় আরএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মোট ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। তার মধ্যে ১৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৭টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। কিন্তু আমরা সব কেন্দ্রকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্র এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে, আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।’
নির্বাচন পূর্ববর্তী এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিনি সবার সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন ৩ হাজার ৫১৪ জন পুলিশ, এক হাজার ৯৩৫ আনসার সদস্য। থাকবেন ২৫০ জন র্যাব এবং বিজিবির ১০ প্লাটুন সদস্য। দায়িত্ব পালন করবেন ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে র্যাব-৫ তাদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম বিন্যস্ত করেছে। কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার (২১ জুন) ভোর ৬টা থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবের অফিসার, ডিএডিসহ মোট ৩০০ জন র্যাব সদস্য মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী হিসেবে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত থাকবে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে এবার চিহ্নিত সন্ত্রাসীও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া হত্যা, মাদক, চাঁদাবাজি, বোমাবাজি মামলার আসামিও ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তারা ভোটের মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন। ঘটেছে সহিংসতাও। তবে তাদের গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যেই রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার সকালে র্যাব-৫-এর রাজশাহীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মামলার আসামিরা প্রার্থী হয়েছেন, এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনার যখন এসেছিলেন তখনও তোলা হয়েছিল। বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তারা সবাই জামিনে আছেন। নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী তারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে তাদের কার্যক্রম আমরা নজরে রেখেছি। আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতা চালু রয়েছে। ভোটের দিন তারা সহিংসতা করতে পারবেন না।’









