নীলফামারী শহরের কালিতলা কেন্দ্রিয় বাসটার্মিনাল হাটসহ অধিকাংশ কোরবানির হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অবৈধভাবে টোল নেওয়া হচ্ছে। এতে হাট প্রতি ১৫-২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদাররা।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০০ টাকা আবার কোনও ক্ষেত্রে গরু প্রতি সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা টোল আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। এতে ক্রেতা ৫০০ টাকা ও বিক্রেতা ১০০ টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু ইজারাদাররা প্রতি রশিদে ৯০০ টাকা আদায় করছেন। ৯০০ টাকার মধ্যে ক্রেতার কাছ থেকে ৬০০, বিক্রেতার কাছ থেকে ১০০ ও হাটের চাঁদা হিসেবে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলা সদরের কালিতলা পশুর হাট ছাড়াও ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি হাট, আমবাড়ি হাট, চিলাহাটি হাট, মির্জাগঞ্জ হাট, ধরনীগঞ্জ ও সদরের রামগঞ্জ হাট, টেংগনমারীর হাট, কচুকাটার হাট, ঢেলাপীর হাট, ভবানীগঞ্জহাটসহ অধিকাংশ হাটে অতিরিক্ত টোল নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২১ জুন) কালিতলা হাটে কোরবানির গরু কিনতে আসা মো. রেজভি মিয়া ও আতাউর রহমান বলেন, আমাদের মূল্যবিহীন দুটি ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সেখানে টোল আদায়ের টাকার (অংক) পরিমাণ নেই। শুধু ছাড়পত্রে (রশিদ) গরুর ক্রয়মূল্য লেখা রয়েছে।
গরু ব্যবসায়ী আবুল বাসার বলেন, ‘অতিরিক্ত টোল ও রাস্তায় বিভিন্ন চাঁদা দিতে হয়। এতে ঢাকায় গরু নিয়ে বিক্রি করে কোনও লাভ হয় না। তার পরেও আমাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে।’
কালিতলা হাটের ইজারাদার শাহজামাল গং অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ছাড়পত্রের ফি বাবদ ৬০০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে। আর কেউ যদি টাকার পরিমাণ বেশি নিয়ে থাকে সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন নাহার বলেন, ‘নীলফামারী পৌর শহরের হাট পৌরসভা নিয়ন্ত্রন করেন। এখানে আমাদের কিছু বলার নাই। তবে অভিযোগ পেলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









