চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে কাত হওয়া কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘পানগাঁও এক্সপ্রেস’ ১৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি। জাহাজটিতে আছে ৩৫ জন আমদানিকারকের কয়েক শত কোটি টাকার পণ্য। মাঝ সাগরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পণ্য রেখে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে ওই জাহাজ থেকে ১৭ থেকে ১৮টি কনটেইনার মিসিং থাকার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া কনটেইনার পাওয়া গেলেও সেখানে মিলছে না পণ্য। সন্দ্বীপ ভাসানচরের কাছে তিনটি কনটেইনার পাওয়া গেলেও সেগুলোতে কোনও পণ্য পাওয়া যায়নি। এসব পণ্য স্থানীয়রা কনটেইনার খুলে নিয়ে গেছে। ১৭ দিনেও জাহাজটি উদ্ধার না হওয়ায় শিপিং কোম্পানির গাফিলতকে দায়ী করছেন আমদানিকারকরা।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর এন্ট্রারপ্রাইজের ম্যানেজার রায়হানুল ইসলাম হৃদয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ টাকার পণ্য ছিল ওই জাহাজে। সেসব পণ্য কেমন আছে তা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তাই আছি। মাঝ সাগরে এতো টাকার পণ্য রেখে আমাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এসব মালামাল ভালো আছে কিনা, আমাদের মালামাল ভর্তি কনটেইনারটি জাহাজে সুরক্ষিত আছে কিনা? এসব মালামাল মিসিং হলে আমাদের পথে নামতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রথম দিকে শুনেছি জাহাজটি কাত হওয়ার পর তিনটি কনটেইনার সাগড়ে পড়ে গেছে। এখন শুনছি ১৭ থেকে ১৮টি কনটেইনার মিসিং আছে। এ জাহাজে কতো কনটেইনার আছে তা নিয়েও দুই ধরনের তথ্য পেয়েছি। এরমধ্যে কেউ বলেছে ৯৬টি কনটেইনার ছিল, আবার কেউ বলছে ৭২টি ছিল। কনটেইনার যাই থাক সেগুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে। কনটেইনারগুলো ঘিরে যাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।’
তিনি বলেন, ‘জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে পানগাঁওতে যাওয়ার সময় সাগরের বালুতে আটকে গিয়ে কাত হয়ে যায়। অথচ ৬ জুলাই জাহাজটি কাত হয়েছিল, আজ ২৩ জুলাই পর্যন্ত ১৭ দিনেও জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জাহাজটি উদ্ধারে শিপিং কোম্পানি এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চরম ঘাফিলতি আছে। যার কারণে জাহাজটি উদ্ধারে এতো সময় লাগছে।’
এদিকে, জাহাঙ্গীর এন্ট্রারপ্রাইজের মতো ৩৫ জন আমদানিকারকের শত শত কোটি টাকার পণ্য রয়েছে কাত হওয়া পানগাঁও এক্সেপ্রেস জাহাজটিতে। এসব আমদানিকারকরা প্রতিদিনই জাহাজের খবর নিতে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা তথা শিপিং এজেন্টের কাছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের মালিকানাধীন ‘পানগাঁও এক্সপ্রেস’ জাহাজটি ভাড়ায় পরিচালনা করছে সি গ্লোরি শিপিং এজেন্সিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গত ৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভাসানচরের বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জাহাজটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এখন এটি অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। জাহাজটি কনটেইনার ভর্তি আমদানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ-টার্মিনালে যাচ্ছিল।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ধারকারী জাহাজ তথা ভাড়া করা জাহাজ দিয়েও চেষ্টা করে উদ্ধার করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত জাহাজটি উদ্ধারে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানকে। চুক্তির পর রবিবার (১৬ জুলাই) থেকে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কতদিনে জাহাজটি উদ্ধার সেটি বলা যাচ্ছে না।’
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর চার্টারারের নিযুক্ত একটি টেকনিক্যাল টিম (ডলফিন মেরিন) জাহাজের পানি ও কনটেইনার অপসারণের চেষ্টা করেছে। বন্দরের টাগবোট কান্ডারি-১০-সহ ভাড়া করা একটি টাগবোট দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজটি উদ্ধারে সফল হয়নি। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে নৌ-বাণিজ্য অফিসের ইঞ্জিনিয়ার সার্ভেয়ার রফিকুল ইসলাম ও বন্দরের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোস্তাহিদুল ইসলামকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।








