বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরীর নিচু এলাকা। পানি ঢুকেছে চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চাকতাই-খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন পণ্যের গুদামে। নষ্ট হয়েছে অনেক আড়তের পেঁয়াজ, রসুন, মসলা, চাল-ডালসহ বিভিন্ন পণ্য। ব্যবসায়ীদের দাবি, পানিতে পাঁচ কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চট্টগ্রামে দু’দিন ধরে কখনও থেমে থেমে আবার কখনও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে বৃষ্টির দ্বিতীয় দিনে বুধবার (২ আগস্ট) বিকালে নগরীর চাকতাই-খাতুনগঞ্জে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি হয়। বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় চাকতাই-খাতুনগঞ্জে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে।
চাকতাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ বুধবার বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি একাকার হয়ে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। অতিবৃষ্টিতে চাকতাই-খাতুনগঞ্জে পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এর প্রতিকার চেয়ে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোনও প্রতিকার মিলছে না। আজকের জলাবদ্ধতায় বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। এতে অনেক পণ্য নষ্ট হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি টাকার বেশি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হিসাব করার পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।’
চাকতাই-খাতুনগঞ্জ ছাড়াও নগরীর বাকলিয়া মিয়াখান নগর, মাস্টারপোল, চকবাজার, ষোলশহর, হালিশহর, কমার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকা, ছোট পোল, বড় পোলসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে এ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এ সময় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিকাল ৩টার পূর্বের চব্বিশ ঘণ্টায় ৬১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া বিকাল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। ওই তিন ঘণ্টায় ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।’
তিনি জানান, নিম্নচাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টি আরও দুই-এক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। যেসব এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হবে সেসব এলাকায় পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।








