কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় এক মাদ্রাসার মুহতামিমের (প্রধান) বিরুদ্ধে গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে এক কিশোর শিক্ষার্থীর নিতম্ব এবং পায়ের তলা পুড়িয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চান্দের চর ইউনিয়নের নয়াকান্দি মমতাজিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার হেফজ বিভাগের কিশোর আব্দুল কাইয়ুমকে (১৬) মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে।
অভিযুক্ত মুহতামিম হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম হাবিব (২৮) উপজেলার নয়াকন্দি গ্রামের রেণু মিয়ার ছেলে এবং গ্রেফতার শিক্ষক আতিকুল ইসলাম (২৮) মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার শ্রীকাইল গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা হাফেজা বেগম মাদ্রাসার মুহতামিম সাইফুল ইসলাম হাবিব, সহযোগী শিক্ষক আতিকুল ইসলামসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় মামলা করেন। মূল অভিযুক্ত মুহতামিম ও আসামি তিন শিক্ষার্থী পালিয়ে গেছেন। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক বিশেষ সভায় মঙ্গলবার মুহতামিমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।
নির্যাতনের শিকার শিশু আব্দুল কাইয়ুম জানায়, ওইদিন সে তার অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে খেলার ছলে দুষ্টুমি করছিল। এক ফাঁকে তার পরনের লুঙ্গি খুলে যায়। এর শাস্তি হিসেবে ওই রাতে (১৬ সেপ্টেম্বর) মুহতামিম অফিসে নিয়ে শিক্ষক আতিকুল এবং তিন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় তার নিতম্ব এবং পায়ের তলায় গরম ইস্ত্রি লাগিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে ঝলসে দেন।
মা হাফেজা বেগম বলেন, ‘সোমবার খাবার নিয়ে মাদ্রাসায় গেলে সে আমাকে দেখে কাঁদতে থাকে। ছেলের মানসিক অবস্থা বুঝে তাকে বাড়ি নিয়ে যাই। বাড়িতে গিয়ে সে তার জখমের জায়গা দেখিয়ে পুরো ঘটনা বলে। তারা আমার ছেলের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুছ ছালাম সিকদার বলেন, ‘দেখে মনে হয়েছে, দশ-বারো দিন আগেই পুড়েছে। পোড়া দুই নিতম্বেই গভীর ঘাঁ হয়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
ইউএনও ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, ‘সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। ছেলেটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।’
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আবদুল কাইয়ুমকে গরম ইস্ত্রির ছ্যাঁকা দিয়ে পোড়ানোর ঘটনায় মুহতামিম হাফেজ সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক আতিকুল ইসলামহ আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে রাতে তার মা হাফেজা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’









