তাপমাত্রা ক্রমশ কমছেই উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই জেলার ওপর দিয়ে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই মাসেই দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এই অঞ্চলে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৪ শতাংশ। সোমবার এই তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ।
তথ্যমতে, গত ৭ ডিসেম্বরও এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাঁচ দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৬ ডিসেম্বরে বৃষ্টিপাতের পর থেকেই এই জেলার তাপমাত্রা কমে যেতে শুরু করে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া সহকারী আসাদুজ্জামান জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে। এতে তাপমাত্রা কমে দাঁড়াবে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে। উত্তর, উত্তর পঞ্চিমাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় এর প্রভাব পড়বে। থাকবে কুয়াশারও প্রভাব। এই মাসেই দুটি শৈত্যপ্রবাহ বইবে এই এলাকায়।
তিনি বলেন, ‘মূলত বৃষ্টিপাত হওয়ার পর থেকেই এই এলাকার তাপমাত্রা কমে যেতে শুরু করেছে। যদিও নতুন করে কোনও বৃষ্টির আশঙ্কা নেই।’
এদিকে, তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের। আয়-উপার্জনে পড়ছে ভাটা। শীতের কারণে ঠিকভাবে কাজে যেতে পারছেন না একটু বয়স্ক মানুষরা।’
দিনাজপুর সদর উপজেলার বোলতৈড় এলাকার কৃষক সেলিম রেজা বলেন, ‘এই শীতে আমাদের কৃষির জন্য খুব এটা সুখবর হয় না। কারণ এই এলাকাটাতে আলু ও টমেটোর আবাদ হয়। এই ফসলগুলোতে কুয়াশার প্রভাব পড়লে লেটবাইটসহ নানান রোগের আক্রমণ হয়। আবার এই সময়টাতে কৃষিশ্রমিকও পাওয়া যায় না।‘
গোপালপুর এলাকার কৃষক পরেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এই শীতে ঠিকভাবে কাজ করা যায় না। ফসল উৎপাদনেও বেশ ঝুঁকি পোহাতে হয়। শীতের চেয়েও বড় সমস্যা হয় কুয়াশার প্রভাব হলে।’
কাটাপাড়া এলাকার সোহরাব আলী বলেন, ‘এই শীতে আমাদের বয়স্ক মানুষের বড় কষ্ট। ঠিকভাবে কাজ করতে পারি না। বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। ফলে উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়।’









