X
সোমবার, ২০ মে ২০২৪
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

১৭ বছর কারাবন্দি জঙ্গিনেতার মৃত্যু

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
১৫ মে ২০২৪, ১৬:৩৭আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১৬:৪৭

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালের জঙ্গিনেতা মন্তেজার রহমান কারাগারে থাকা অসুস্থ হয়ে মঙ্গলবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি ২০০৭ সাল থেকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে আটক ছিলেন।

জয়পুরহাটের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বুধবার দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তেজার রহমান ক্ষেতলাল উপজেলার উত্তর মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন।

জয়পুরহাট জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, মন্তেজার দীর্ঘদিন ধরে হার্ট-কিডনি-প্রেসারসহ জটিল রোগে ভুগছিলেন। কারাগারের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বুধবার সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। 

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে ক্ষেতলালের উত্তর মহেশপুর গ্রামে জঙ্গিনেতা মন্তেজারের বাড়িতে জেএমবির শীর্ষ নেতারা গোপনে বৈঠক করছিলেন। খবর পেয়ে রাতেই বাড়িটি ঘেরাও করে জয়পুরহাট সদর থানার পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেএমবির সদস্যরা সদর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল শফিসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে গুরুতর জখম করে ৩টি শটগান, ৪৫টি গুলি ও ১টি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেন। ওই রাতে ১৯ জঙ্গিকে আটক করে পুলিশ। পরদিন সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম ক্ষেতলাল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৭০ জনকে আসামি করা হয়। এজাহারে অস্ত্র লুট, পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে জখম ও মারপিটের অভিযোগ করা হয়।

ওই ঘটনায় গ্রেফতার ১৩ আসামি ২০০৪ সালের বিভিন্ন সময়ে আদালত থেকে জামিন পান। এর পর থেকেই তারা পলাতক। ২০০৭ সাল থেকে মন্তেজার রহমান রহমান কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া আসামি শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ শীর্ষ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এবং একজন মারা গেছেন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দিনাজপুর অঞ্চলের পরিদর্শক জালাল উদ্দীন মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ৬০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু হামলার সময় আসামি মন্তেজারের বাড়ির পাশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হলেও বিস্ফোরক আইনে কোনও মামলা করেনি পুলিশ। এ জন্য ২০০৯ সালের ১২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে সিআইডিকে মামলাটি আবার তদন্তের আদেশ দেন। সিআইডির দিনাজপুর জেলার সহকারী পুলিশ সুপার শেখ আহসান-উল কবীর অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করে ২০১০ সালের ২৫ মে ওই ৬০ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আদালতে পৃথক আরেকটি অভিযোগপত্র দেন। দুটি মামলার চার্জ গঠন ও বিচার কাজ শুরু হয়েছে বলে জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক জানিয়েছেন।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
মসজিদে যাওয়ার পথে একদল কুকুরের আক্রমণে যুবকের মৃত্যু
চট্টগ্রামে লরি চাপায় মৃত্যু বেড়ে তিন
রাজধানীতে রিকশাচালকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার
সর্বশেষ খবর
বিলুপ্তপ্রায় গন্ধগোকুল আহত অবস্থায় উদ্ধার
বিলুপ্তপ্রায় গন্ধগোকুল আহত অবস্থায় উদ্ধার
প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে ইরানে পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা
প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে ইরানে পাঁচ দিনের শোক ঘোষণা
মিরপুরে আজও নামেনি অটোরিকশা
মিরপুরে আজও নামেনি অটোরিকশা
লালগালিচা ও প্রদর্শনীতে আলো ছড়ালেন ডেমি মুর-মার্গারেট কোয়ালি
কান উৎসব ২০২৪লালগালিচা ও প্রদর্শনীতে আলো ছড়ালেন ডেমি মুর-মার্গারেট কোয়ালি
সর্বাধিক পঠিত
শনিবার ক্লাস চলবে ডাবল শিফটের স্কুলে
শনিবার ক্লাস চলবে ডাবল শিফটের স্কুলে
রাইসির হেলিকপ্টারের অবস্থান ‘শনাক্ত’, সুসংবাদের প্রত্যাশা
রাইসির হেলিকপ্টারের অবস্থান ‘শনাক্ত’, সুসংবাদের প্রত্যাশা
নতুন বাণিজ্য সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ
নতুন বাণিজ্য সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ
ঋণ খেলাপের দায়ে স্ত্রী-ছেলেসহ স্টিল মিল মালিকের কারাদণ্ড
ঋণ খেলাপের দায়ে স্ত্রী-ছেলেসহ স্টিল মিল মালিকের কারাদণ্ড
হামজার পর দিয়াবাতেকে বাংলাদেশ দলে খেলানোর প্রক্রিয়া শুরু
হামজার পর দিয়াবাতেকে বাংলাদেশ দলে খেলানোর প্রক্রিয়া শুরু