দীর্ঘ আট ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরে (সিআরবি)। সোমবার (২৪ জুন) সকাল ৯টায় বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় এ দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ (পিডিবি)। পরে প্রতিষ্ঠান দুটির পক্ষ থেকে বিল পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে বিকাল ৫টা নাগাদ পুনরায় সংযোগ দেওয়া হয়।
পিডিবি চট্টগ্রামের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. আকবর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ছয় মাসের বিল বাবদ প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে কলেজের মিটারে বকেয়া রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। তাই কলেজের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দফতরে (সিআরবি) ২ কোটি ১২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’
এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রশাসনিক ভবন, দুটি হোস্টেল, ভেনম রিসার্চ সেন্টার, ফরেনসিক ভবন অন্ধকার হয়ে পড়ে। এতে মেডিক্যাল কলেজের ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণাসহ সব কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
মেডিক্যাল কলেজ ভবনে রয়েছে ভেনম রিসার্চ সেন্টার। এখানে সাপে কাটার প্রতিষেধক তৈরির জন্য গবেষণা করা হয়। গবেষণার জন্য এখানে প্রায় ৩৫০টি জ্যান্ত সাপ আছে। এসব সাপকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখতে হয়। এ ছাড়া গবেষণাগারের ফ্রিজে রাখা আছে সাপের বিষ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় গবেষণাগারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। শঙ্কা দেখা দেয় সাপগুলোর জীবন রক্ষা নিয়ে।
ভেনম রিসার্চ সেন্টার প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ কারণে ভেনম রিসার্চ সেন্টারে গবেষণায় কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। তবে তড়িঘড়ি করে জেনারেটরের মাধ্যমে এখানে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হয়।’
পিডিবি স্টেডিয়ামের নির্বাহী প্রকৌশলী কেনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ছয় মাসের বিল বাবদ প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ টাকা এবং সিআরবিতে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। বারবার নোটিশ দেওয়া হলেও কাজ না হওয়ায় আজ সকালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রধান প্রকৌশলী বরাবর বিল পরিশোধের লিখিত আশ্বাস দেওয়া হলে বিকালে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়।’
এদিকে, বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সিআরবিতে কর্মরতদের। এর আগে গত মাসের ১৯ মে রেল পূর্বাঞ্চলের সিআরবি ও পাহাড়তলী অফিসের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পিডিবি। পরবর্তী সময়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে বিল পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলে ওইদিন বিকালে বিদ্যুতের পুনঃসংযোগ দেওয়া হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বিদ্যুৎ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পিডিবি। পরে পরিশোধ করার আশ্বাসে সংযোগ স্বাভাবিক হয়।’








