জামালপুরে জেলা কারাগারের ফটক ভেঙে কয়েদিরা পালানোর চেষ্টা করায় ব্যাপক গোলাগুলি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ওই কারাগারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বন্দিরা কারাগারের ভেতরের ফটক ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারারক্ষীরা গোলাগুলি শুরু করেন। মুহুর্মুহু গুলির শব্দে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে কারাগারের ভেতরে অগ্নিসংযোগ করেন কয়েদিরা। পুরো কারাগার এলাকা আগুনের ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কারাগারের চারপাশ ঘিরে ফেলেন। এ সময় কারাগারের ভেতর থেকে কয়েদিদের ‘আমাদের বাঁচান’ বলে আর্তনাদের শব্দ পাওয়া যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভানো শুরু করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ সময় মাইকিং করে কয়েদিদের শান্ত থাকা এবং পালিয়ে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
জামালপুর জেলা কারাগারে আট শতাধিক কয়েদি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনায় তিন কারারক্ষী আহত হয়েছেন। তারা হলেন– রুকনুজ্জামান (৫০), সাদেক আলী (৪৫) ও জাহিদুল ইসলাম (৪১)। তাদের জামালপুর জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আরও কোনও কারারক্ষী বা কয়েদির হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তা ছাড়াও কোনও বন্দি পালিয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে জেলার আবু ফাত্তাহকে ফোন করা হলে অন্য একজন ফোন ধরে বলেন, ‘আপনি যাকে ফোন করেছেন তাকে এই মুহূর্তে দেওয়া যাবে না।’ এই কথা বলে তিনি ফোন রেখে দেন।
এ ব্যাপারে জেল সুপার মাজহারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
সন্ধ্যার পরেও কারাগারের ভেতর গোলগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।








