ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ‘দুর্যোগ-দুর্দিনে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশবাসীর কল্যাণে পাশে আছে এবং থাকবে। পাশাপাশি আলেম-ওলামারাও আছেন। আমরা লক্ষ করছি ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরে বানভাসি মানুষদের সহায়তায় আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।’
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমটুয়া আল-আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
এ সময় খালিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, ফেনীতে বেসরকারি উদ্যোগে এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে সরকারি উদ্যোগেও কাজ চলছে। ইনশাআল্লাহ চলমান বন্যা পরিস্থিতি থেকে আমরা উদ্ধার হবো। আমরা বেশি করে আল্লাহতায়ালার সাহায্য চাইবো।’
আল-মানাহিল ফাউন্ডেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক বানভাসি মানুষের মাঝে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
চরমটুয়া আল-আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আবু তাহেরের সঞ্চালনায় এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন– জেলাপ্রশাসক সুরাইয়া জাহান, পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল মো. সোহেল রানা, সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন মজুমদারসহ অনেকে।
এদিকে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ধর্ম উপদেষ্টা ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ত্রাণ এবং ঢেউটিনসহ ঘর নির্মাণের সামগ্রী বিতরণ করেন।
এর আগে গতকাল বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউজ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ধর্ম উপদেষ্টা। সভায় তিনি বলেন, ‘কোনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল, নেতা বা প্রতীকের প্রতি মানুষের আকর্ষণ থাকতেই পারে। কিন্তু অফিসে দলবাজি করা, নিজের দলের লোককে প্রমোশন ও নিয়োগ দেওয়া এবং ভিন্নমতের লোককে দমিয়ে রাখাটা অপরাধ। আমরা এই গর্হিত সংস্কৃতির অনুশীলন বন্ধ করতে চাই। সুষ্ঠুধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে চাই।’
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা সংস্কার করতে চাই। দুর্নীতি আমাদের ক্যান্সারের মতো কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। রন্ধে রন্ধে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। টাকা কামাতে হবে এবং সেই টাকা বিদেশে পাচার করতে হবে- এই কালচারটা আমরা পরিবর্তন করতে চাই।’
সরকার একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংস্কার জাতির আকাঙ্খা, এই আকাঙ্খা পূরণ করতে হবে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে আমাদের প্রথম কাজ হলো আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দলের কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করে আমরা বিদায় নিতে চাই।’
এসময় লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








