চট্টগ্রাম নগরীর আখতারুজ্জামান উড়াল সেতুর নিচে ২ নম্বর গেট মোড় এলাকায় দুটি খুঁটির সঙ্গে দুই হাত বেঁধে ‘মধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা’ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচে-গেয়ে শাহাদাত হোসেন নামে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (পিআর) কাজী মো. তারেক আজিজ বাংলা ট্রিবিউনকে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডে তিন জনকে গ্রেফতার নিয়ে আজ (বুধবার) দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের নিচতলার মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।’
গত ১৪ আগস্ট নগরের আখতারুজ্জামান উড়াল সেতুর নিচে ২ নম্বর গেট মোড় এলাকায় দুটি খুঁটির সঙ্গে দুই হাত বেঁধে ‘মধু হই হই আরে বিষ হাওয়াইলা’ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচে-গেয়ে শাহাদাতকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে একদল যুবক। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে শাহাদাতকে। এ সময় গান গেয়ে তাকে মারধর করছেন যুবকরা। ভিডিওটিতে মারধরের শিকার ব্যক্তি যে শাহাদাত, সেটি শনিবার রাতে পুলিশকে নিশ্চিত করেছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। শাহাদাত পেশায় ছিলেন ভ্যানচালক।
নিহত শাহাদাত হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হারুনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও মাকে নিয়ে বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে থাকতেন তিনি।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা কিংবা ১৪ আগস্ট রাতে মারধরের ঘটনাটি ঘটে। তবে লাশ ১৪ আগস্ট উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের ধারণা, ওইদিন ঘটনাটি ঘটেছে। সেদিন শাহাদাতের স্ত্রী ও চাচা মো. হারুন হাসপাতালে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা হারুন ১৫ আগস্ট অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৩ আগস্ট বেলা ২টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় চলে আসবেন বলে স্ত্রীকে জানান। গভীর রাত পর্যন্ত বাসায় ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করেন স্ত্রী শারমিন। এ সময় শাহাদাতের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে বাদী হারুন দেখতে পান, নগরের প্রবর্তক মোড়ের অদূরে সিএসসিআর হাসপাতালের সামনের সড়কের পাশে ভাতিজা শাহাদাতের লাশ পড়ে আছে।
এর আগে রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন রাতেই চমেক হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে শাহাদাতের লাশ শনাক্ত করেন স্ত্রী শারমীন এবং মামলার বাদী হারুন। সেদিন রাতে মৃত অবস্থায় শাহাদাতকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।









