টানা চার দিনের বৃষ্টিতে কুমিল্লার দক্ষিণের তিনটি উপজেলায় আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই দক্ষিণের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা জেলায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাবে আগামী তিন দিন ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (৫ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার দক্ষিণের দুটি ইউনিয়ন উত্তরদা ও দক্ষিণ মুদাফরগঞ্জ এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পানি বাড়ছে। সেইসঙ্গে নাঙ্গলকোট উপজেলার নিম্নাঞ্চল জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নেও লক্ষণীয় হারে বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন অংশে খালবিল ও নদী দখলের কারণে আগের বন্যার পানি ততটা নামতে পারেনি। যে কারণে ওই পানির সঙ্গে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। বন্যার আশঙ্কায় অনেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
এদিকে, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, নাঙ্গলকোটের কিছু অংশের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। যে কারণে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
লাকসামের উত্তরদা ইউনিয়নের মনপাল এলাকার বাসিন্দা আবুল বাশার, রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেন বলেন, ‘বন্যার পানি খুব ধীরে নামছিল। হঠাৎ তিন দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি। পানি এখন আবার বাড়ছে। জমিজমা সব ডুবে গেছে। এভাবে পানি বাড়লে আবার বন্যা হয়ে যাবে।’
মনোহরগঞ্জের বাঁইশগাঁও ইউনিয়নের বাঁইশগাঁও গ্রামের সুমন পাটোয়ারী বলেন, ‘বন্যার পানি এমনিতেই নামছিল না। তার মাঝে নতুন করে বৃষ্টি হচ্ছে। পানি গত রাত থেকে আবার বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে যদি দু-তিন দিন চলে, আবার বন্যা হতে পারে।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েও কোনও প্রতিকার মিলছে না। আমরা বলবো, খাল-বিল, ড্রেন ও নদীর বাঁধগুলো দ্রুত অপসারণ করে পানি নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। আর না হয় পুরো উপজেলা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।’
নাঙ্গলকোটের জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মানিকমুড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী আশরাফ মজুমদার বলেন, ‘পানি রাস্তা ছুঁই ছুঁই। অনেক এলাকায় বাড়িতে পানি ঢুকে শুরু হয়েছে। বৃষ্টি বেশি হলে বন্যা হতে পারে।’
মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজালা রানী চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টানা তিন দিন ধরে মনোহরগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। আগের পানি ও বৃষ্টির প্রভাবে আবারও পানি বাড়ছে। এ পানিতে কোনও স্রোত নেই। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাচ্ছি, পানি কমছে না। বেশি বৃষ্টি হলে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় বাড়িঘর, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করেছি। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনোহরগঞ্জ সহকারী কমিশনার-ভূমি ও আমি নিজে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বাঁধ ভেঙে দিয়েছি। এবং পানির স্বাভাবিক চলাচল করার ব্যবস্থা করেছি। তারপরেও আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা চাই। তারা আমাদের বলেছে, সব উপজেলার পানি এ অঞ্চলে এসে জমা হয়। তাই পানি সরতে দেরি হয়।’
কুমিল্লা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সামনে একটি লঘুচাপ হবে। লঘুচাপের প্রভাবে কুমিল্লায় আগামী তিন দিন বৃষ্টিপাত হবে। যদিও এখন পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি, কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে স্বাভাবিকভাবেই পানি বাড়ার কথা।’









