মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন যখন হবে, তখনই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে। বৈষম্যহীন নিরাপদ সমাজ গঠনে সংস্কারের প্রত্যাশায় বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন কমিশন গঠন করা হয়েছে। যারা ইতোমধ্যে সংস্কারের জায়গাগুলো চিহ্নিতের কাজ শুরু করেছেন।’
সোমবার বিকালে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা, সুধীমণ্ডলী, ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ আরও বলেন, ‘আমরা সবাই একটা বৈষম্যহীন সমাজ চাই। সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত আলোচনা চলছে। আমরা চাইছি, ব্যক্তি পরিবর্তন হবে; কিন্তু সিস্টেম থেকে যাবে। সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ।’
মুদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি ৫ আগস্ট বা তার পরে আসেনি। বিগত ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন সিন্ডিকেটগুলোকে লুটপাটের ব্ল্যাংক চেক দেওয়া হয়। পণ্য পরিবহনে পথে পথে চাঁদাবাজি হয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমাতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।’
ভূমি সংস্কার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিটি বিপ্লবের পর প্রথমেই ভূমি সংস্কারে হাত দেওয়া হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে। শুধু শহর নয়, গ্রামেও ভূমি সংস্কারের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। কৃষিজমিতে নতুন বাড়ি বানানোর পরিবর্তে একতলা বাড়ির উপরে দোতলা কিংবা তিনতলা করার বিষয়ে চিন্তা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের পর্যটন স্পটগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। যাতে দেশি পর্যটন খাত প্রসারিত হয়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন– যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদ খানসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিক, ছাত্র ও সাংবাদিকসহ সুধীজন।
এর আগে সকালে উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আব্দুল্লাহর বেনাপোলের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি শহীদ আব্দুল্লাহর কবর জিয়ারত করেন।









