যশোরের শার্শা সীমান্তের ইছামতী নদীর পাড় থেকে একদিনেই তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ নদীতে ভাসমান অবস্থায় এবং দুজনের নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে ২টি এবং বিকালে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে তাদের মৃত্যু হলো সে বিষয়ে এখনও পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি।
জানা যায়, বুধবার বিকালে শার্শা থানার অগ্রভুলোট সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি বেনাপোল পোর্ট থানার দীঘিরপাড় গ্রামের জামিলুর রহমানের ছেলে সাকিবুর রহমানের। এর আগে সকালে একই এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে সাবু হোসেন ও কাগজপুকুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ সীমান্তের পাঁচভুলোট ও পুটখালী থেকে উদ্ধার করা হয়।
সাকিবুরের মামা আজগার আলি বলেন, ‘সাকিবুর ট্রাকের হেলপারি করতেন। মঙ্গলবার দুপুরে ট্রাকে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকালে লোকমুখে খবর পেয়ে শার্শার অগ্রভুলোট সীমান্তের ইছামতি নদীর পাড়ে গিয়ে তার মরদেহ শনাক্ত করি। পরে জানতে পারি, লোভে পড়ে স্থানীয় কিছু চোরাকারবারির সঙ্গে সে মঙ্গলবার রাতে চোরাচালানের পণ্য আনতে গিয়েছিল ভারতে।’ কীভাবে মৃত্যু হলো, সে বিষয়ে সে বিষয়ে পরিবার এখনও কিছুই জানতে পারেনি।
সাবু হোসেনের স্ত্রী জানান, সকালে লোকমুখে খবর পান পুটখালী সীমান্তের ইছামতী নদী পাড়ে তার স্বামী আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পথেই সাবু মারা যান। মাঝে মাঝে তিনি মালামাল আনতে ভারতে যেতেন।
জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর জানান, তার ভাই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ভারতে থাকেন। তিনি ভারতীয় একটি মেয়েকে বিয়ে করে ওই দেশেরই নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানে বসবাস করতেন। বর্তমানে ভারতীয় ভিসা বন্ধ থাকায় জাহাঙ্গীর অবৈধ পথে কয়েকদিন আগে ভারত থেকে বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ভারতে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। পরে সকালে লোকমুখে পরিবার খবর পায়, জাহাঙ্গীরের লাশ পাঁচভুলোট সীমান্তের ইছামতী নদীর পাড়ে পড়ে রয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
তবে এ ব্যাপারে স্থানীয়রা জানায়, যে তিন জনের মরদেহ পাওয়া গেছে তাদের ৫-৭ জনের একটি দল আছে। তারা ভারত থেকে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক এবং চোরাচালানি পণ্য পাচার করে এনে দেশে সরবরাহ করে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকার স্থানীয়দের সঙ্গে লেনদেনের ঝামেলায় অথবা বিএসএফের নির্যাতনের শিকার হয়ে তাদের মারা যেতে পারেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া জানান, গতকাল লোকমুখে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মরদেহ এখনও দাফন হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মামলাও করা হয়নি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি পৃথক মামলা করেছে।
কীভাবে মরদেহগুলো সীমান্তে নদীর পাড়ে এলো এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খুরশিদ আনোয়ার জানান, পাঁচভুলোট, অগ্রভুলাট ও পুটখালী সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে বুধবার সকালে ও বিকালে ইছামতি নদীর তীরে পৃথক পৃথক স্থানে মরদেহগুলো পড়ে দেখা যায়। পরে সকালে এবং বিকালে সেগুলো উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় ময়নাতদন্তের জন্য। বিএসএফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছু জানে না বলে জানিয়েছে।
ময়নাতদন্তের জন্য তিনটি মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে দাফন হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।









