সাত মাস পর বাবা হলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ সেলিম

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
০৮ মার্চ ২০২৫, ২২:৫১আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৫, ২২:৫১

অপারেশন থিয়েটার থেকেই বের করতেই নবজাতক দু’চোখে টলটলিয়ে এদিক-সেদিক তাকাচ্ছে। নিজ হাত মুখে দিচ্ছে। দাদি ছোট্ট কাঁথা নিয়ে নাতনিকে কোলে নিলেন। তখনও মাকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করা হয়নি। এ সময় নবজাতক কান্না শুরু করলো। স্বজনদের মনে প্রশ্ন, জন্মের পর এদিক-ওদিক তাকিয়ে শিশুটি কি বাবাকেই খুঁজছিল? নবজাতকের কান্নার সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন সবাই ডুকরে কেঁদে উঠলেন। শিশুটি জন্মের পরে আনন্দের পরিবর্তে বাবা সেলিম তালুকদারের অনুপস্থিতি স্মরণ করে শোক, আহাজারি ও বিলাপ করতে থাকেন স্বজনরা। ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ সেলিম তালুকদারের স্ত্রী সুমী আক্তার শনিবার রাত ৮টার দিকে ফুটফুটে এই মেয়েসন্তানের জন্ম দেন। ঝালকাঠি শহরের একটি ক্লিনিকে শিশুটি দুনিয়ার আলো দেখতে পায়।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম তালুকদার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ৩১ জুলাই গুলিতে নিহত হন। এর তিন দিন পরই ছিল (৪ আগস্ট) তার প্রথম বিবাহবার্ষিকী। ৮ আগস্ট পরীক্ষায় ধরা পড়ে সেলিমের স্ত্রী সুমী আক্তার অন্তঃসত্ত্বা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সুমীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান দুনিয়ার আলো দেখতে পেলেও শিশুটি বাবা সেলিম তালুকদারকে হারিয়েছে জন্মের সাত মাস আগেই।

সেলিম তালুকদার (২৮) একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ জুলাই রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হন। ৩১ জুলাই রাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২ আগস্ট সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সেলিম নলছিটি উপজেলার মল্লিকপুর এলাকার সুলতান হোসেন তালুকদারের ছেলে। তিনি বিজিএমই ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে আড়াই বছর আগে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সহকারী মার্চেন্ডাইজার পদে চাকরি শুরু করেন। তারা তিন বোন ও এক ভাই। সেলিম ছিলেন মেজো।

সেলিমের স্ত্রী সুমী জানান, ওইদিন সকালে বাড্ডা লিংক রোডের কুমিল্লাপাড়ার বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন  সেলিম। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষের মধ্যে আটকে পড়েন তিনি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলিবিদ্ধ হন।

সুমি বলেন, ‘আমার স্বামী শহীদ হয়েছেন। তার স্মৃতি হিসেবে এই সন্তানই আমার কাছে থাকবে। আমার একটাই চাওয়া, আমার সন্তানকে যেন কারও কাছে হাত পাতা না লাগে। আমি যতদিন বাঁচবো শহীদ সেলিমের স্ত্রী হিসেবে বাঁচবো। সন্তানকে তার পরিচয় দেবো।’

এদিকে, ছেলের শোকে এখনও কাতর মা সেলিনা বেগম। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এখন যদি সেলিম বেঁচে থাকতো তাহলে প্রথম সন্তানকে নিয়ে কত আনন্দ পেতো।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ধারদেনা করে এসব টাকা জোগাড় করেছি। সেই টাকা এখনও পরিশোধ করতে পারিনি। আমরা চাই, আমার ছেলেকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হোক।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
২১ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে ছাড়া হলো মাহদীসহ তিন জনকে
মামলা ছাড়াই ১৪ ঘণ্টা ধরে থানায় বৈষম্যবিরোধীর নেতা মাহদী
৭ ঘণ্টা ধরে থানায় আটক বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী, পুলিশ বলছে সকালে সিদ্ধান্ত হবে
সর্বশেষ খবর
ক্যালিফোর্নিয়ার বুকে এক টুকরো রাশিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ার বুকে এক টুকরো রাশিয়া
‘লক্কড়-ঝক্কড় বাস’ যেভাবে আবার নামানো যাবে রাস্তায়, জানালো ডিএমপি
‘লক্কড়-ঝক্কড় বাস’ যেভাবে আবার নামানো যাবে রাস্তায়, জানালো ডিএমপি
মাঠহীন শৈশব, বাড়ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি
মাঠহীন শৈশব, বাড়ছে শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি
এবার বড়রাও যাচ্ছে চীনে
এবার বড়রাও যাচ্ছে চীনে
সর্বাধিক পঠিত
সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা পাবেন মোবাইল ভাতা
সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা পাবেন মোবাইল ভাতা
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ বাতিল করলো কাতারএনার্জি
এক জেলার ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
এক জেলার ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ৩ মিনিটে ৮১ বার ‘স্যার’ ডাকলেন সিভিল সার্জন
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন
নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন