‘রসমালাই’ নাম শুনলেই জিভে জল আসে। কুমিল্লার এই সুস্বাদু মিষ্টি প্রায় সবার কাছেই পরিচিত। তাইতো চলার পথে সমানে পড়লে অনেকেই কুমিল্লার রসমালাই কিনতে ভুল করেন না। কিন্তু না জেনেই বেশিরভাগ ক্রেতা নিম্নমানের ও নকল রসমালাই কিনছেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই কিলোমিটার বিশেষ করে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার থেকে সেনানিবাস সংলগ্ন টিপরা বাজার পর্যন্ত এলাকায় এসব দোকান চোখে পড়ে। এ এলাকায় রয়েছে শতাধিক নকল রসমালাইয়ের দোকান।
প্রায় দোকানের নাম মাতৃভাণ্ডার। কোনোটির আগে ছোট করে আদি, কুমিল্লা, আসল, ময়নামতি, খাঁটি ও নিউ শব্দটি লেখা রয়েছে। হয়তো মিষ্টি কেনার সময় ছোট্ট এই লেখাটি ক্রেতার চোখ এড়িয়ে যায়। গরুর দুধ এবং অন্যান্য উপাদানের অনুপাত ঠিক না রেখে এসব রসমালাই তৈরি করা হচ্ছে। ক্রেতা ধরতে দামও রাখা হচ্ছে কম। এতে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে কুমিল্লার ঐতিহ্য।
সূত্র মতে, বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে রসমালাই তার রসে মাতোয়ারা করে রেখেছেন মিষ্টিপ্রেমীদের। প্রথমে এর নাম ছিল ক্ষীরভোগ। পূর্ব পাকিস্তান হওয়ার পর অবাঙালিরা কুমিল্লায় এসে ক্ষীরভোগকে রসমালাই বলতে শুরু করে।
প্রথম দিকে কুমিল্লায় মাটির হাঁড়িতে বিক্রি হতো রসমালাই। পরে আসে পলিথিন ব্যাগ আর প্লাস্টিকের কৌটা। এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এখনও কুমিল্লা মনোহরপুরে রসমালাই দোকানের সামনেমানুষের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।
রসমালাইয়ের কারিগররা জানান, কুমিল্লা নগরীর বাইরে ‘কুমিল্লার রসমালাই’ বলে বিক্রি করা হলেও তাতে আসল রসমালাইয়ের স্বাদ পাওয়া যায় না।
কুমিল্লায় আসল রসমালাই মেলে মাতৃভাণ্ডার, ভগবতী পেড়া ভাণ্ডার ও শীতল ভাণ্ডারে। মনোহরপুর কালীবাড়ির সামনে মাতৃভাণ্ডার, ভগবতী পেড়া ভাণ্ডার ও শীতল ভাণ্ডারের অবস্থান। এছাড়া শহরে পোড়াবাড়ী সুইটস, জলযোগ, জেনিস সুইটসে ভালো মানের রসমালাই তৈরি হচ্ছে।
ভগবতী পেড়া ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী অ্যাডভোকেট কিরণময় দত্ত জানান, কুমিল্লার রসমালাই বিদেশেও যাচ্ছে। গুণগত মান ঠিক রাখলে ৩৬ ঘণ্টাও রসমালাই নষ্ট হয় না। ভেজাল ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের গুঁড়ো দুধ আর ময়দা দিয়ে রসমালাই তৈরি করে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। গরুর খাঁটি দুধ ছাড়া রসমালাই তৈরি করা সম্ভব নয়। চিনি আর গরুর দুধের দাম বাড়ছে, তাই বাড়ছে রসমালাইয়ের দামও। মান ঠিক রেখে বর্তমানে কেজি ২৪০ টাকার কমে রসমালাই বিক্রি করা সম্ভব নয়।
পদুয়ার বাজার এলাকার শাহজালাল সুপার শপের দেলোয়ার হোসেন জানান, অনেকে অধিক মুনাফার জন্য ময়দা আর চিনি দিয়ে কিছু একটা তৈরি করে রসমালাই বলে চালিয়ে দেয়। তারা তা ক্রেতাদের কাছে ১৫০টাকায় বিক্রি করছে। এতো কম দামে আসল রসমালাই বিক্রয় করা সম্ভব নয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, নকল রসমালাইয়ের কারণে একদিকে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। অন্যদিকে কুমিল্লার ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, মূল মাতৃভাণ্ডার তাদের নামের রেজিস্ট্রেশন করেনি। তাদের নাম ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ বিষয়ে মাতৃভাণ্ডারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নকল রসমালাইয়ের দোকানে অভিযান চালানো হবে।
/এসটি/








