গাজীপুরে পৃথক স্থানে বসতবাড়ি, ঝুট ও তুলার গুদামে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ (দিঘিরপাড়) এলাকায় তিনটি টিনশেড কলোনিতে আগুন লাগে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সকালে মজনু মিয়া, মাহিউদ্দিন এবং সোহেল রানার তিনটি কলোনির ৭৪টি ঘরে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলাকাবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে ৭৪টি কক্ষে থাকা ফ্রিজ, টিভি, ওয়্যারড্রোব, আলমারি, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক শ্রমিক আফরোজা বেগম বলেন, ‘প্রায় এক যুগ আগে গাইবান্ধা থেকে স্বামী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা পল্লী বিদ্যুৎ (দিঘিরপাড়) এলাকায় বসবাস শুরু করি। সকাল ৭ টায় কাজে চলে যাই। আধাঘণ্টা পরেই ঘরে আগুন লাগার খবর পেয়ে এসে দেখে ঘরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারলাম না।’
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা চৌধুরী ইফতেখার রায়হান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। এতে ওইসব বসতঘরে থাকা মূল্যবান মালামালসহ ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম ফখরুল হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার এবং যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
এদিকে, একইদিন ভোর ৫টার দিকে গাজীপুর মাহনগরীর কোনাবাড়ী (আমবাগ) এলাকার পলাশ মিয়ার ঝুট গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ২টি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি এবং সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, পলাশের ঝুট গুদামে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। যদি পিএন কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা থেকে পানি সরবরাহ করে সহযোগিতা না করা হতো তাহলে চারপাশের বাসাবাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঝুট গুদাম দিন দিন ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব গুদামে নেই অগ্নিনির্বাপণের যন্ত্র। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র স্থানে শেড তৈরি করে ঝুট গুদাম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।’
অপরদিকে, গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল মাঝুখান এলাকায় একটি তুলার গুদামে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঝুট মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ মামুন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবরে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসসহ চারটি ইউনিটের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় গুদামের সব মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা (শেখ বাড়ী) এলাকার বাসিন্দা মুন্নী বেগমের বসতবাড়িতে আগুন লাগে।
ক্ষতিগ্রস্ত মুন্নী বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। কে বা কারা আমার বসতঘরে আগুন লাগিয়েছে আমি জানি না। আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।’
শ্রীপুরের মাওনা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল করিম বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।’









