গাইবান্ধায় শায়িত হলেন সুদানে নিহত শান্তিরক্ষী সবুজ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৪আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬:৩৪

সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী মো. সবুজ মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে অবতরণ করে।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভগবানপুর) গ্রামে। গ্রামের বাড়ির সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের পাশে ফাঁকা স্থানে অনুষ্ঠিত হয় জানাজার নামাজ।

সবুজ মিয়া জানাজায় অংশ নেন নিহত সবুজের স্বজন, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। জানাজা ও দাফনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে মরদেহের কফিন রাখা হয় বাড়ির পাশের ঈদগাহ মাঠে। যথাযথ সামরিক মর্যাদা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শান্তিরক্ষী সবুজ মিয়াকে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে শায়িত করা হয়।

এদিকে, মরদেহ কফিনবন্দি থাকায় কেউ শেষবারের মতো সবুজের মুখ দেখতে পারেননি। কফিন ছুঁয়েই প্রিয়জনকে দেখার আকুতি জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ছেলের মরদেহের সামনে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন মা ছকিনা বেগম। বারবার ডাকতে থাকেন, ‘সবুজ, সবুজ’। পাশে স্বামীহারা স্ত্রী নূপুর আক্তার বুকফাটা কান্নায় ডুকরে ওঠেন। স্বামীকে শেষবার দেখতে না পেরে নির্বাক হয়ে পড়েন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুপুর আক্তার বলেন, ‘স্বামী হারিয়ে এখন জীবন কীভাবে চলবো জানি না।’ তিনি নিজের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করতে সেনাবাহিনী ও সরকারের প্রতি দাবি জানান।

শুধু স্বজনরাই নন, সবুজের মরদেহ আসার খবরে সকাল থেকেই তার বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী। কফিনবন্দি মরদেহ দেখে তারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো এলাকা শোকে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে নিহত এই শান্তিরক্ষীর শেষ বিদায়ে স্মৃতিচারণ করেন রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন আলভি। তিনি বলেন, ‘সবুজের মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পর যথাযথ সামরিক মর্যাদায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি নিহতের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা জানান, সবুজ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। বৃদ্ধ মা, বড় বোন ও স্ত্রীকে নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। তাই নিহত শান্তিরক্ষীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সেনাবাহিনী ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

নিহত সবুজ মিয়া পলাশবাড়ী উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভগবানপুর) গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। শৈশবেই বাবাকে হারান তিনি। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ মা ছকিনা বেগম ও স্ত্রী নুপুর আক্তারকে নিয়েই চলছিল তার ছোট সংসার। ২০২৩ সালের ৭ মার্চ নাটোর জেলার বাসিন্দা নূপুর আক্তারকে বিয়ে করেন সবুজ। দাম্পত্য জীবনের মাত্র দেড় বছরেই থেমে যায় তাদের পথচলা।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক ধোপি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সবুজ মিয়া। পরবর্তীতে তিনি লন্ড্রি কর্মচারীর পদে উন্নীত হন।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী