চট্টগ্রাম কাস্টমসে নিলামে উঠেছে ৪৭৫০০ কেজি খেজুর

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১

চট্টগ্রাম কাস্টমসে দ্বিতীয় দফায় অনলাইন নিলামে উঠেছে (ই-অকশন) ১০ হাজার ২৫৮ কার্টনে থাকা ৪৭ হাজার ৫০০ কেজি (সাড়ে ৪৭ টন) বিভিন্ন ধরনের আমদানি করা খেজুর। এবার এসব খেজুরের সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৯ টাকা। এর আগে এসব খেজুর গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম দফায় অনলাইন নিলামে উঠলেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত দরদাতা। ফলে দ্বিতীয় দফায় নিলামে তোলা হয়েছে। অনলাইন নিলামে তোলার আগে এসব খেজুর দুই দফায় প্রকাশ্যে নিলামেও তোলা হয়েছিল। সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম মেলেনি।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ৪৭ হাজার ৫০০ কেজি বিভিন্ন ধরনের খেজুর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) অনলাইন নিলামে তোলা হয়েছে। ওইদিন থেকে অনলাইনে প্রস্তাবিত দরমূল্য নেওয়া শুরু হয়েছে। দরমূল্য নেওয়া হবে আগামী ১১ জানুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত। অনলাইন নিলামে বিডারদের (নিলামে অংশগ্রহণকারী) জন্য পণ্য প্রদর্শন করা হবে ১ জানুয়ারি থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস সূত্র জানিয়েছে, নগরীর ফিরিঙ্গি বাজারের ব্রিজঘাট রোডের সালাম বিল্ডিংয়ের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএসএ করপোরেশন ১০ হাজার ২৫৮ কার্টনে ৪৭ হাজার ৫০০ কেজি (সাড়ে ৪৭ টন) বিভিন্ন ধরনের খেজুর আমদানি করে। এর মধ্যে আজওয়া, মেজদুল ১৫ হাজার কেজি এবং সুগাই, সাফাউই, মাসরুক, সুকারি ও লুবনা খেজুর ছিল ৩২ হাজার ৫০০ কেজি। এসব খেজুর চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দুইবার প্রকাশ্যে নিলাম এবং একবার অনলাইন নিলামে তোলার পরও পাওয়া যায়নি কাঙ্ক্ষিত দাম। প্রথমবার অনলাইন নিলামে এসব খেজুরের সংরক্ষিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৭২ টাকা। এবার দ্বিতীয় দফায় অনলাইন নিলামে এসব খেজুরের দাম কিছুটা কমিয়ে রাখা হয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৬৯ টাকা।

জানা গেছে, পচনশীল পণ্যের দ্রুত নিলাম আয়োজনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ জারি করে। কিন্তু কাস্টমসের নানা জটিলতায় সঠিক সময়ে এসব পণ্য নিলামে তোলা যাচ্ছে না। ফলে বিগত সময়ে অনেক খাদ্যপণ্য পচে যাওয়ায় তা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব পাওয়া দূরে থাক, উল্টো পণ্য ধ্বংসে অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘গত ১৫ ডিসেম্বর প্রথম অনলাইন নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। তবে নিলামে ভিত্তি মূল্যের ৬০ শতাংশ দর পড়েনি। এ কারণে দ্বিতীয় নিলামের আয়োজন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এ সময়ের মধ্যে কোনও আমদানিকারক পণ্য না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় আনা জব্দ করা পণ্যও নিলামে তোলা হয়। ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

/এমএএ/
সম্পর্কিত
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে এক মাসে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড
চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে শতাধিক পণ্যবাহী কন্টেইনার নিলামে
ইরান যুদ্ধের জেরে জাপানের তেল আমদানিতে ভাটা
সর্বশেষ খবর
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি