শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৪৫টি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং বিভিন্ন ধরনের দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে চার জনকে আটক করা হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলাসপুর এলাকায় দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। অতীতে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে শত শত ককটেল বিস্ফোরণ হয় এবং কমপক্ষে ১০ জন মারা যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে মুলাই ব্যাপারীকান্দি এলাকার সাগর ব্যাপারীর বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো বসতঘরটি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সোহান ব্যাপারী নিহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবীন সরদার নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরদিন শুক্রবার সকালে নিরাপত্তাবাহিনী ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হাতবোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। এরপর সোমবার ডগ স্কোয়াডসহ পুনরায় ওই এলাকায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী।
এ অভিযানে ৪৫টি ককটেলসদৃশ বস্তু এবং বিভিন্ন ধরনের দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে চার জনকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তানভীর হোসেন বলেন, ‘বিলাসপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ককটেলসদৃশ বস্তু ও দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’








