বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, ‘জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, বিএনপি টু-থার্ড মেজোরিটি পেয়েছে। আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী, বাংলাদেশের জনগণ আবার এ দেশে সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতি দিয়ে সমস্ত অপপ্রবণতাকে রুখে দিতে সক্ষম হবে।’
শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁও কালিবাড়ির নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচনোত্তর মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, বিএনপি কখনোই একটা ক্যাডারভিত্তিক পলিটিক্যাল পার্টি নয়, বিএনপি একটা গণভিত্তিসম্পন্ন পলিটিক্যাল পার্টি। এ রকম একটা পার্টির যে চরিত্র থাকে সেই চরিত্র নিয়েই বিএনপি জনগণের জন্য কাজ করেছে। তারা সরকারে থেকেছে। বিএনপির যে ম্যানিফেস্টো, বিএনপির যে ভিশনগুলো, বিএনপির যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথাগুলো, যে দাবিগুলো, পয়েন্টগুলো সেগুলো জনগণ গ্রহণ করেছে বলেই আজকের এই ভূমিধস বিজয় হয়েছে।
‘এই বিজয়কে এভাবে মূল্যায়ন করতে হবে যে বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন থেকে দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তখন থেকে কখনোই বিএনপি জনপ্রিয়তা হারায়নি। কারণ হচ্ছে, বিএনপি সব সময় জনগণের সঙ্গে থেকেছে, জনগণের রাজনীতি করেছে। সেটাই বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সব সময় আমাদের প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে অটল থাকি। আমরা যাদের সঙ্গে বিগত দিনগুলোতে রাস্তায় যুগপৎ আন্দোলন করেছি, তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা নির্বাচন করেছি, তাদের নিয়েই আমরা সরকার গঠন করবো।’
জামায়াতে ইসলামীর উত্থানকে আপনারা কীভাবে দেখেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসন এই উত্থানের কারণ। এটা একটা বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দর্শন যে যখনই গণতন্ত্র চাপা থাকে, তার কণ্ঠকে রুদ্ধ করা হয়, তখন অন্য উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজকে জামায়াতের যে উত্থান হয়েছে সেটা আওয়ামী লীগের কারণেই ঘটেছে। তাদের যে দমন-পীড়ন, বিরোধী দলকে কাজ করতে না দেওয়া, তাদের নির্বাচন করতে না দেওয়া, যার ফলে এটা ঘটেছে।’
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।









