খুলনায় ডিপো থেকে তেল নেওয়া বন্ধ রেখেছেন ট্যাংক-লরি মালিক ও চালকরা। ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবারের মতো রবিবারও সকাল থেকে তেল নেওয়া বন্ধের ফলে এ অঞ্চলের ১৫ জেলার পাম্পগুলো তেলশূন্য হয়ে পড়ায় বন্ধ রয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু জানান, খুলনা বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫ জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল, ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের চাহিদা কমপক্ষে ৩৬ লাখ লিটার। সেখানে খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র সাড়ে ১০ লাখ লিটার। চাহিদামতো তেল না দেওয়ায় তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হয়ে রবিবারও সকাল থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসেসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল করিম জানান, তিনটি ডিপোতে অনেক তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু তিনটি ডিপো সিন্ডিকেট করে তেল দিচ্ছে না। একটি ট্যাংক-লরির ধারণক্ষমতা ৯ হাজার লিটার থেকে ২২ হাজার লিটার পর্যন্ত। কিন্তু ট্যাংক-লরিতে তেল দেওয়া হচ্ছে খেয়ালখুশিমতো মাত্র ২ হাজার লিটার থেকে ৪ হাজার লিটার পর্যন্ত। ফলে গাড়ি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া পাম্পগুলোতে ভোক্তাদের ব্যাপক চাপ রয়েছে। ফলে পেট্রোল পাম্প মালিকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
খুলনা নিউ মার্কেটের একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শনিবার থেকে পাম্পের মালিকরা তেল পাচ্ছেন না। প্রতিদিন একটি পাম্পে তিন হাজার লিটার আকটেন এবং তিন হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া একদিন পরপর দেওয়া হচ্ছে তিন হাজার লিটার পেট্রোল; যা সন্ধ্যার আগেই শেষ হয়ে যায়। রবিবার পাম্প তেলশূন্য রয়েছে।
মহানগরীর ফেরিঘাট এলাকার পাম্পের মালিক কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তেল দিতে পেরেছি। শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।’
নগরীর কেসিসি পাম্পের সুপারভাইজার মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আজও তেল সরবরাহ না পাওয়ায় পাম্প অচল রয়েছে। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তেল পাওয়ার কোনও আশা নেই।’
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, ‘তেল উত্তোলন বন্ধ সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। স্থানীয় সমস্যায় এমন হতে পারে। তেলের সঙ্কট নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’









