কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি বিদ্যালয় থেকে অচেতন অবস্থায় এক শিশুশিক্ষার্থীকে উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মিরপুর থানায় মামলাটি করেছেন শিশুটির মা। মামলায় ওই বিদ্যালয়ের দফতরিকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি বলেন, ‘মামলার একমাত্র আসামি হামিদুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে অচেতন অবস্থায় ওই মেয়েশিশুকে উদ্ধার করা হয়। সে ওই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। শিশুটিকে রাতেই প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হতে পারে।
শিশুটির পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানে অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীও ছিল। বেলা ৩টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেও ওই শিশুটি বাড়ি ফেরেনি। পরে তার খোঁজে নামেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে শিশুটির পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিদ্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ দেখতে বিদ্যালয়ের দফতরিকে অনুরোধ করেন।
শিশুটির এক মামা বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের দফতরিকে শ্রেণিকক্ষগুলোর তালা খুলে দেখার কথা বলা হয়। তবে দফতরি কোনও কর্ণপাত করেননি। বরং উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করে শ্রেণিকক্ষগুলোয় তল্লাশি চালানো হয়। নিচতলার তালা খুলে দোতলায় গিয়ে মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আরেক তলায় গিয়ে মেয়েটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মেয়েটিকে স্থানান্তর করেন।’
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বিদ্যালয়ের দফতরি ও নৈশপ্রহরীকে শুক্রবার বিকালে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নৈশপ্রহরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মামলা করার পর একমাত্র আসামি দফতরিকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এদিকে, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম বলেন, ‘মেয়েটির শারীরিক পরীক্ষার জন্য যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা পজিটিভ পাওয়া গেছে।’









