ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অপর দুই যুবক। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন– মোরসালিন (২২) ও নবীর হোসেন (৪০)। মোরসালিন ওই ইউনিয়নের ধ্বজনগর বাতান বাড়ি এলাকার খেবজু মিয়ার ছেলে। নবীর হোসেন মধুপুর গ্রামে মহরম আলীর ছেলে। মোরসালিন গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকজন চোরাকারবারি রাতে মোরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় যান। সে সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি করলে ঘটনাস্থলে মোরসালিন ও নবীর হোসেন নিহত হন। পরে তাদের লাশ ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুর খান জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজন মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। নিহত নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
নবীরের ছেলে তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না। তিনি সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
ধ্বজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি রাতে ২০-২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে বিএসএফ গুলি করলে তাদের মধ্যে মোরসালিন গুলিবিদ্ধ হয়। বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরসালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল বলে তার বড় ভাই আমাকে জানিয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় ধ্বজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত দিয়ে ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পরে চোরাচালানের মালামাল নিয়ে আসার সময় ভারতের ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের চোরাচালানে বাধা দেয়। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে বিএসএফ দুই রাউন্ড ছররা গুলি করে। এ সময় বাংলাদেশি চোরাকারবারি মোরসালিন (২২) ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় ভারতের ত্রিপুরা বিশালঘর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা।
বিষয়টি বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফুল ইসলাম আরও জানান, ভারত সিমান্তরক্ষি বাহিনী বিএসএফ কমান্ডেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করে দুই যুবকের লাশ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যাপারে কাজ চলছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ছামিমিউল ইসলাম ও সিমান্ত হতঢার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।









