ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার বিচার এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ছররা গুলিতে নিহত হন– ধ্বজনগর গ্রামের হেবযু মিয়ার ছেলে কলেজছাত্র মো. মোরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৪২)। এ ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে আরও চার জন। পরে ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পর বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। পরে নিহতদের লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে নিহত দুই যুবকের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার জন্য স্থানীয় চোরাকারবারিদের দায়ী করে সরকারের কাছে তাদের বিচার দাবি করেন।
নিহত কলেজছাত্র মোরসালিনের বাবা হেবযু মিয়া কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে প্রতিবেশী মাদক কারবারিরা রাতে এসে ডেকে নিয়ে গেছে। পরের দিন খবর পাই বিএসএফের গুলিতে সে মারা গেছে।
‘আমার ছেলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। আপনারা পাড়া-প্রতিবেশীকে জিজ্ঞাসা করুন৷তাকে প্রলোভন দিয়ে চোরাকারবারিরা নিয়ে গেছে। আমি তাদের বিচার চাই। সীমান্তের ওপারে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
নবীর হোসেনের মা জাহেরা খাতুন ছেলেকে হত্যার পর নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন। যারা তার ছেলেকে সীমান্তের ভেতর যেতে যারা সহযোগিতা করেছে তাদের বিচার চাইলেন তিনি।
এদিকে, বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি নিহতদের কবর জিয়ারত করেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দুই পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান।









