জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকার মূল্যের একটি ‘মার্সিডিজ বেঞ্জ’ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দারা জানিয়েছে, গাড়ির মালিক কর ফাঁকি দিয়ে গাড়িটি নিজের কাছে রেখেছিলেন। গাড়িটির শুল্ক প্রায় এক কোটি টাকা।

শনিবার রাত ১২টায় গাড়িটির জব্দ করা হয়। উদ্ধারের সময় গাড়িটি বর্তমান মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল মালিকের আম্বরখানা বিএম টাওয়ারের গ্যারেজে ছিল।
এনবিআর-এর শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সারাদেশে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে সিলেটেও কর ফাঁকি দিয়ে আনা গাড়ির খোঁজে নামে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান স্থানীয় কর্মকর্তাদের গাড়িটির বিষয়ে তথ্য দেন।
এরপর মহাপরিচালকের নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার সেখানে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু, বিষয়টি বুঝতে পেরে গাড়ির মালিক সেখান থেকে গাড়িটি সরিয়ে ফেলেন। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টার অভিযানের পর শনিবার রাতে গাড়িটি জব্দ করা হয়।
প্রভাত সিংহ জানান, কারনেট সুবিধার আওতায় কাস্টমস ডিউটি ছাড়াই ২০১২ সালে গাড়িটি যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। কিন্তু, নির্ধারিত সময়ে গাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি। কারনেট সুবিধার আওতায় বিদেশি কোনও গাড়ি নিয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য শুল্ক ছাড়া দেশে প্রবেশের বিধান রয়েছে। তবে ঐ মেয়াদের মধ্যেই পুনরায় গাড়িটি নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে। মূলত প্রবাসীদের কারনেট সুবিধা দেওয়া হয়।
প্রভাত কুমার আরও জানান, মালিক গাড়িটি ফিরিয়ে না দিয়ে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। গোপনে খবর পেয়ে কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স এই অভিযান চালায়।
গাড়ির মালিক আব্দুল মালিক জানিয়েছেন, গাড়ির ট্যাক্স পরিশোধের সব চেষ্টা তিনি করছেন এবং যথাযথ নিয়মে কর পরিশোধ করবেন। এ ব্যাপারে এনবিআর-এর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
/এনএস/টিএন/








