নির্মিত হয়নি বাঁধ, মেঘনার ভাঙনে গৃহহীন হওয়ার শঙ্কায় লক্ষাধিক মানুষ

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭

মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর অংশে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত কয়েকদিনের ভাঙনে উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

মেঘনায় বিলীনের হুমকিতে রয়েছে রায়পুরের টুনুর চর, চরকাছিয়া, চরইন্দ্রুরিয়া গ্রাম, আলতাফ মাস্টার ইলিশঘাট, জালিয়ারচর, চরঘাসিয়াসহ ১২ কিলোমিটার এলাকা। দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন নদী তীরবর্তী লক্ষাধিক মানুষ।

জেলে বকুল মিয়া ও হযরত আলীসহ স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই বর্ষার মৌসুমে তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু এবার বর্ষার শুরুর আগেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে বাঁধ নির্মাণের জন্য আবেদন করা হলেও এখনও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। নদীর স্রোত ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে ভাঙন আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও চরআবাবিল ইউনিয়ন নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীর পানি বাড়ায় উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। কিছু এলাকা এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিন ইউনিয়নের চরকাছিয়া, চরইনদ্রুরিয়া, চরঘাসিয়া এবং জালিয়ারচর গ্রামের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি বলেন, ‘উপজেলা মধ্যে টুনুর চর, মিয়ারহাট, চরকাছিয়া, চরইনদ্রুরিয়া ও জালিয়ারচরে মানুষ বেশি অবহেলিত। উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের পশ্চিমপাড়ের বিশাল এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নেই।’

উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক (সহকারী কমিশনার-ভূমি) নিগার সুলতানা বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ ও দুর্দশা কাছ থেকে দেখেছি। বাঁধটি নির্মাণ হলে মানুষ নিজ ভূমিতে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে (পাউবো) জানিয়েছি।’

পাউবোর লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ-জামান খান বলেন, ‘রামগতি উপজেলার আলেকজেন্ডার মেঘনার নদী ভাঙন রোধে কাজ চলছে। রায়পুরের নদীর পাড়ের আলতাফ মাষ্টারঘাট এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। আরও বাজেট চাওয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
লেহ যাওয়ার পথে কেন এক রাত জিসপায় থাকেন পর্যটকরা?
শহরের কোলাহল ভুলে ঘুরে আসুন দুর্গাপুর-চন্দ্রডিঙ্গার মায়াবী প্রকৃতিতে
নীল জল, নির্জন চর আর অপার সৌন্দর্যে ভরা নিদ্রার চর
সর্বশেষ খবর
সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান মুক্তি কাউন্সিলের
সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ জোটে বাংলাদেশকে যুক্ত না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান মুক্তি কাউন্সিলের
‘ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন’
‘ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন’
প্রবাসীকে খুন: আরও তিন আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে সাজিদ
প্রবাসীকে খুন: আরও তিন আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে সাজিদ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দিন আজ
সর্বাধিক পঠিত
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো 
মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমদের দায়িত্ব বাড়লো 
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
স্বর্ণের দামে বড় পতন
স্বর্ণের দামে বড় পতন
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ