চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকায় আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ। গ্রেফতারদের সবাই বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও অন্যান্য ডিজিটাল অপরাধে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিএমপির দামপাড়া পুলিশ লাইনসে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানা এলাকার জালালাবাদ কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনে অভিযান চালানো হয়। সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি বিশেষায়িত দল খুলশী থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযানটি পরিচালনা করে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের বাড়িটি ভাড়া নেয়। বাড়িটি একজন দুবাইপ্রবাসীর। ওই বাড়িতে অবস্থান করে তারা সংঘবদ্ধভাবে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।’
তিনি জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পরিচালনার জন্য চক্রটির সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশি কয়েকজন সহযোগীও রয়েছেন। এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বর্তমানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। পাশাপাশি আইনি কর্তৃত্বের বাইরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে পুরোনো ও ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি ব্যবহৃত অ্যাপল ব্র্যান্ডের ট্যাব, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি সাদা রঙের সিপিইউ, একটি কালো রঙের স্যামসাং ব্র্যান্ডের মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস ও একটি কালো রঙের প্রিন্টার জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাঁচটি পেনড্রাইভ ও বিভিন্ন কোম্পানির চারটি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান কর্মসংস্থান কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করেই চক্রটি তাদের অনলাইনভিত্তিক অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এসব ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির কর্মকাণ্ড, তাদের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং প্রতারণার ধরন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত আছে।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘বিদেশি নাগরিকদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র বাংলাদেশে অবস্থান করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধ চালিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। চক্রটির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।’








