মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছে এপারের টেকনাফ সীমান্ত। এতে নাফ নদীসংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চরম আতঙ্ক। বুধবার রাতে চার দফা ভারী বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্তবর্তী এলাকা। এতে টেকনাফ জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের আশপাশের জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শাহপরীর দ্বীপের নাফ নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ ভয়াবহ ঝাঁকুনি অনুভব করি। মনে হচ্ছিল, যেন পুরো পৃথিবী কেঁপে উঠছে। পরপর চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। প্রথম বিস্ফোরণের সময় নাফ নদীর ওপারে আগুনের লেলিহান শিখাও দেখা গেছে। মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আগুনের ঝলক আমাদের দিকেই এগিয়ে আসছে। বিস্ফোরণটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আরাকান আর্মির ছোড়া মর্টার শেলের বিস্ফোরণ হতে পারে।’
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, ‘বহুদিন পর মিয়ানমারে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর প্রভাব টেকনাফ সীমান্তেও পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। অনেকে আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন। বিশেষ করে, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য এমন পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগের।’
এদিকে, সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও জান্তা সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে মর্টার শেল ও মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কাঁপছিল উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত। র্দীঘদিন বন্ধ থাকার পর আরাকান আর্মির দখলে থাকা রাখাইন রাজ্যে পুনরুদ্ধারে আবার হামলা শুরু করেছে মিয়ানমার সরকার। একই দিন সকালে জান্তা সরকার রাখাইনে বুথেডং এলাকায় বিমান হামলা চালায়।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. ইসলাম বলেন, ‘প্রায় সাত মাস পর আবারও মিয়ানমারের দিক থেকে গোলাবর্ষণের শব্দ শুনলাম। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে চারবার বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রথমে মনে হয়েছিল ভূমিকম্প হচ্ছে। পরে বুঝতে পারি, সীমান্তের ওপার থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ আসছে।’
এ বিষয়ে টেকনাফের সাবরাংয়ের ইউপি সদস্য আবুল ফয়েজ বলেন, ‘বহুদিন পর মিয়ানমারে আবারও যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যার কারণে টেকনাফের সীমান্ত কেপেঁ উঠেছে। এতে মানুষের ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে, এ ধরনের ঘটনায় শিশু আর বয়োজ্যেষ্ঠের হার্টবিট দুর্বল হয়ে যেতে পারে।’
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আজ রাত ৯টার দিকে মিয়ানমারের মংডু এলাকার সীমান্তের ওপারে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। ওই গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা যাচ্ছে, এ কারণে অনেক স্থানে ঘরবাড়ি কেঁপে উঠেছে। বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করতে আমি নিজেই সীমান্ত এলাকায় যাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে প্রাথমিকভাবে জেনেছি, শাহপরীরদ্বীপ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি চলছে।’
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও শোনা গেছে। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।’









