স্কুলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিতরণ করা একটি লেবু গাছ পেয়েছিল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। সেই গাছ যত্নে লাগিয়েছে বাড়ির আঙিনায়। এক বছর পর সেই গাছে এসেছে দুটি ফল। একটি লেবু এনে উপহার দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে। আর সেই উপহারের বিনিময়ে পাঁচ বছর তার বেতন মৌকুফের ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের এ ঘটনাকে বৃক্ষরোপণে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোবারক হোসেন প্রতি বছর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের গাছ উপহার দিয়ে অভিভাবক সমাবেশ করেন। শনিবারও এমনই একটি অভিভাবক সমাবেশ ছিল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের ইসলামাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ফজলে লোহানী বাবু। সভাপতিত্ব করেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক মোবারক হোসেন। অনুষ্ঠানে কয়েকশো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তিনটি করে গাছ বিতরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মোবারক হোসেন বলেন, ২০০৪ সাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি করছি। কখনও বীজ, কখনওবা বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে সেটি বিতরণ করছি। আমার ছোট্ট সোনামণিরা যে এত উপলব্ধি করবে তা আমি ভাবিনি। যখনই আমি প্রথম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর কথা শুনেছি আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাচ্চাদের বৃক্ষরোপণে অনুপ্রেরণা দিতে ওই শিক্ষার্থী যতদিন আমার স্কুলে থাকবে ততদিন তার বেতন মাফ করে দেবো এবং তা আজ আমি ঘোষণা করলাম।
তিনি বলেন, যদি কোনও শিক্ষার্থী আমাদের উপহার দেওয়া গাছের ফল শিক্ষকদের এনে দেখাতে পারেন, তাহলে তার ওই মাসের বেতন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তার পরেও শিক্ষার্থীরা অনুভব করুক বৃক্ষরোপণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শংকুচাইল গ্রামের সন্তান ও পাকিস্তানে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ফজলে লোহানী বাবু বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থীরা এত সুন্দর সাবলীল ইংরেজিতে কথা বলতে পারে, আমি বিশ্বাসই করতাম না নিজে না দেখলে। এই শিক্ষার্থীরাই একদিন ছোট ছোট চারাগাছ থেকে বৃহৎ বৃক্ষে পরিণত হবে এবং তারাই এই গ্রামকে আলোকিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী জামাল খান, মোমেন খান, আক্তার হোসেন, শংকুচাইল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক কাউসার আলম, শংকুচাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মুফতি কাজী মনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মারুফ ও আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়সহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।









