অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জেতার স্বপ্নই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে ডারউইনে ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শ্রীলঙ্কার টেস্ট জয়ের অপেক্ষা এখনও ফুরায়নি। পাকিস্তানও সর্বশেষ জয়ের স্বাদ পেয়েছে সেই ১৯৯৫ সালে। এমন কঠিন বাস্তবতার মাঝে ২৩ বছর পর ডারউইনে খেলতে গিয়ে ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়েছে টাইগাররা। সিরেজের প্রথম টেস্টে তুলে নিয়েছে ৯ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয়। যে জয় শুধু একটি সংখ্যা নয়; অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তো অবশ্যই, এমনকি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটেরও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেই জয়ের মঞ্চটা গড়ে বাংলাদেশ। তাদের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রানের। বাংলাদেশের বোলারদের দাপটে চতুর্থ দিনের শুরুতেই স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে।
তবে বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত নবম উইকেট হিসেবে সাজঘরে ফেরার পরই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২৮৪ রানে।
চতুর্থ দিন লাঞ্চ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ২৪৩ রানে ৭ উইকেট, লিড মাত্র ১৫। এরপর তাসকিন আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১৮ রানে ফেরেন মিচেল স্টার্ক। ৩৪ বলের ইনিংসে দুটি চার মেরেছিলেন তিনি।
তবে কঠিন পরিস্থিতিতে দারুণ এক ইনিংস খেলেন গ্রিন। বাউন্ডারি মাত্র চারটি হলেও কঠিন হতে থাকা উইকেটে বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এরপর হাসান মাহমুদকে আক্রমণে ফিরিয়ে আনেন। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে দেরি করেননি হাসান। তার বলে আন্ডার-এজ হয়ে বল নিচু হয়ে স্টাম্পে আঘাত করলে ১০৪ রানে থামেন গ্রিন। এরপর মিরাজ পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি।
এদিন মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যারিয়ারের ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার পূরণ করেছেন। হাসান মাহমুদের তিন উইকেট শিকারে ম্যাচে তার উইকেট দাঁড়িয়েছে ৯-এ। বিদেশের মাটিতে কোনো টেস্টে ৯ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় পেসার হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন হাসান।
পরে লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুধু দাপটের সঙ্গে ব্যাট করে বাংলাদেশ। ৪ রানে ওপেনার তানজিদ ফিরলেও সাদমান (২৫*) ও মুমিনুল হক (৩০*) দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করেন।









