খুলনায় চাঞ্চল্যকর তাঁতিদল নেতা হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৩ নং আসামি ফায়েক শেখকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬। এ নিয়ে মামলায় দুই জন গ্রেফতার হলো। এদিকে একই মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা আরাফাতকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল।
এসআরবি ৬-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে এসআরবি-৬, সিপিএসসি এবং এসআরবি-৪, সিপিএসসি এর যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন ব্লক-ই, সেকশন-১২, রোড নং-৮/৭৭ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় খুলনায় চাঞ্চল্যকর তাঁতিদল নেতা হুমায়ুন কবির হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৩ নং আসামি ফায়েক শেখতে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়। সে রায়ের মহল পশ্চিমপাড়ার শেখ ইদ্রিস আলীর ছেলে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে কেএমপির আড়ংঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মামলার এজাহার পর্যালোচনায় জানা যায়, ভিকটিম হুমায়ুন কবির খুলনা মহানগরীর তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। গত পহেলা নভেম্বর সন্ধ্যায় ভিকটিম হুমায়ুন কবির নগরীর রায়ের মহল বড় মসজিদের পেছনে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিল ক্যান্টিন নামক ফাস্টফুডের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় ধৃত আসামি ফায়েক শেখসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধারালো চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ভিকটিমকে গুরুতর জখম করে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ছেলে সৈয়দ নূর আমিন খুলনার আড়ংঘাটা থানায় বাদী হয়ে ধৃত আসামিসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় আসামির তালিকায় থাকা ১৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এস এম ইউসুফ স্বাক্ষরিত প্রেস বার্তায় জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুলনার খালিশপুর থানা ছাত্রদলের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল খুলনা মহানগর শাখা। ২ নভেম্বর খুলনা মহানগর ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরিফাত হোসেনকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে, অভিযোগ তদন্তে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান সালেহ সিফাত ও ১ নম্বর সদস্য মেরাজ হোসেন মানিককে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে লিখিত প্রতিবেদন মহানগর ছাত্রদলের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।