জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঝালকাঠি শহরের কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে মন্দির কমিটির পক্ষে সাবেক প্যানেল মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা প্রনব কুমার নাথ ভানু আটজন ব্যবসায়ীকে আসামি করে এ মামলা করেন। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে, কালিবাড়ি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে,পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরাই প্রতিমা ভেঙে ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করছে।
এদিকে, চাঁদা দাবি ও দোকান লুটপাটের অভিযোগ এনে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০/৩০ জনকে আসামি করে ব্যবসায়ীদের পক্ষে মামলা করেছেন দুলাল দেবনাথ।
এদিকে, মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুর বিক্ষোভ মিছিল করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। ঘটনার খবর পেয়ে বরিশালের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি আকরাম হোসেন, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা মন্দির কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দেন ডিআইজি আকরাম হোসেন।
এ ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেনকে প্রধান করে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী।
অন্যদিকে,চাল ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এতে তারা অভিযোগ করেন, মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রনব কুমার নাথ ভানুর নেতৃত্বে মন্দির সংলগ্ন চালের দোকানে হামলা ও লুটপাট করা হয়। এসব দোকান থেকে নগদ এক লাখ ২৪ হাজার টাকা লুট এবং মালামাল নষ্ট করে তারা। পরে নিজেরাই মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে চাল ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান চাল ব্যবসায়ী দুলাল দেবনাথ।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দু’পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনও আটক নেই।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে ঝালকাঠি শহরের বারচালাস্থ কালী মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মন্দির কমিটি ও মন্দির সংলগ্ন বারচালার চাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। কালীবাড়ি মন্দির কমিটি বারচালার ব্যবসা কেন্দ্রে টিনের বেড়া দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ পথের মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের একটি যাতায়াতের পথ রাখে। কার্তিক পুজার শেষে সেই পথটিও টিনের বেড়া দিয়ে আটকিয়ে দেওয়ার ফলে ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের পথও বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পুলিশের সহযোগিতায় ব্যবসায়ী দুলাল নাথ, দুলাল দেবনাথ, আব্দুল হকিম ও গোপাল টিনের বেড়া ভেঙে ফেলে। কার্তিক পুজারীরা তাদের প্রতিহত করলে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। উভয়পক্ষের ইটপাটকেল নিক্ষেপে চার চাল ব্যবসায়ী ও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে রাতে টহলে থাকা এসআই শাহাদাতসহ কমপক্ষে মোট ১০ আহত হয়।
/বিটি/








