২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে ভেঙে গিয়েছিল ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ চেঁচরী জমাদ্দার হাট বড়ানী খালের ওপরের সেতুটি। এরপর ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই জায়গায় নতুন কোনও সেতু তৈরি হয়নি বা ভেঙে যাওয়া সেতুর সংস্কারে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে সেতুর দুই পারের লোকজন ঝুঁকি নিয়ে সেতু দিয়ে চলাচল করতো। সিডরের সেই ক্ষত অবশেষে শুকালো স্বেচ্ছাশ্রমে। ১৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন স্থানীয় তরুণরা।
সেতুটির উত্তর পাশে একটি বাজার রয়েছে। আর এর দুই পার ঘেঁষে রয়েছে দুইটি প্রাথমিক ও দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এর আশপাশেই রয়েছে আরও কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা। এছাড়া, উপজেলা সদর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আমুয়া বন্দরে যাতায়াতের জন্যও ওই সেতুটিই ছিল চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। বর্ষার দিনে খেয়া পারাপারের সুবিধা থাকলেও বছরের বাকি সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু দিয়েই চলাচল করতে হতো বড়ানী খালের দুই পারের লোকজনকে। সেই কষ্ট লাঘব করতেই স্থানীয় তরুণরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সেতুর ওপর তৈরি করেছেন সাঁকো।
সাঁকো তৈরিতে শ্রম দেওয়া তরুণদের মধ্যে ছিলেন হাবিব ঘরামি, নাসির হাওলাদার, আবুল সিকদার, জামাল মিয়া, মন্টু মিয়া ও সবুজ খরাতি। তারা বলেন, বাড়ানী খালের সেতুটির দুই পাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ আশপাশের হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করে। তাদের সবার সুবিধার্থেই আমরা এলাকা থেকে সুপারি গাছ ও বাঁশ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করে দিয়েছি।
৭৪ নং দক্ষিণ পূর্ব চেঁচরী জমাদ্দার হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষক থাকার সময় নিজের খরচেই সেতুটির ওপর দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করিয়ে দিয়েছি। এবারে তরুণরা এগিয়ে এসেছে। গ্রামবাসী এতে উপকৃত হয়েছে। আমি সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে সাধ্যমতো সাহায্য করেছি।’
স্থানীয় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য রুজি বেগম বলেন, ‘বাড়ানী খালের ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের মতো আর্থিক সক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদের নেই। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় যুবকদের সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সেতুটির ওপরে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।’
/টিআর/এসটি/







