মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও সাবেক ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে করা মামলাসহ তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি তদন্ত করছে মন্ত্রিপরিষদ। রবিবার মন্ত্রীপরিষদ মন্ত্রণালয়ের পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল বরিশাল এসেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এম বজলুল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মাহমুদ হাসান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জন নিরাপত্তা বিভাগ)যুগ্ম-সচিব নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব উম্মে কুলসুম এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব শাফাত মাহবুব চৌধুরী।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে আগেই তদন্ত কমিটির আসার কথাটি জানানো হয়েছিল। সে অনুযায়ী প্রত্যাহার হওয়া মামলার বাদী অ্যাডভোকেট ওবায়েদুল্লাহ সাজু, গাজী তারিক সালমনের আইনজীবী মো. মোখলেসুর রহমান খান ও ঘটনার দিন মেট্রো আদালতে দায়িত্ব পালন করা ৬ পুলিশ সদস্যকে রবিবার সার্কিট হাউসে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান আরও জানান, প্রয়োজন মনে করলে তদন্ত কমিটি এর বাইরে যে কারও সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি প্রসিকিউসন) মো. আব্দুর রব জানান, ঘটনার দিন মেট্রো আদালতে দায়িত্ব পালন করা ৬ পুলিশ সদস্য রবিবার বরিশাল সার্কিট হাউসে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কমিটির সামনে বক্তব্য দিয়েছে।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রাক্তন আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) গাজী তারিক সালমন জানান, গত ১ আগস্ট মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের কনফারেন্স রুমে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তার কাছ থেকে সেদিন কী ঘটেছিল তা শুনেছে।
বরিশালের সাবেক জেলা প্রশাসক গাজী সাইফুজ্জামান ও প্রাক্তন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউসসহ সংশ্লিষ্টদের কার কি ভূমিকা ছিল তা জানতে তদন্ত কমিটি কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
গাজী তারিক সালমানের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে এ ব্যাপারে ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর কেটে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।
রবিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তদন্ত কমিটির প্রধান এ ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তবে তিনি তদন্ত কার্যক্রম এবং সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও নেতাদের আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘তদন্ত কাজ মাঝামাঝি পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে ঢাকায়ও কয়েকজনের বক্তব্য শোনা হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এর সময়সীমা আরও বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হবে।’
উল্লেখ্য স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বঙ্গবন্ধুর 'বিকৃত ছবি' ছাপানোর অভিযোগ এনে গত ৭ জুন আগৈলঝাড়ার সাবেক ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক (বর্তমানে সাময়িক বহিষ্কৃত) ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ওবায়েদুল্লাহ সাজু।
বরিশাল সিএমএম আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সমন জারি করে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
সমন পেয়ে ১৯ জুলাই আদালতে হাজির হলে তারিক সালমনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক মো. আলী হোসাইন। এর দুই ঘণ্টা পর ওই মামলায় বরিশাল সিএমএম আদালত থেকেই জামিন পান তারিক সালমন। এ বিষয়ে দেশব্যপী আলোড়ন সৃষ্টি হলে ২৩ জুলাই মামলার বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: নারীদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, ভুয়া ডাক্তার গ্রেফতার








