ইলিশ মাছ রক্ষা ও মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১ অক্টোবর থেকে ২২ দিন বঙ্গোপসাগরসহ নদী মোহনায় মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞার সময়ে দুরবস্থায় দিন কাটছে বরিশালের জেলে এবং ইলিশ মোকাম শ্রমিকদের। পরিবার পরিজনদের নিয়ে অর্ধাহারে ও অনাহারে দিন কাটানোর অভিযোগ করেছেন তারা।
প্রজনন সময়ে ইলিশ নিধন বন্ধে কঠোর অবস্থানে তৎপর রয়েছে মৎস্য অধিদফতর, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড। প্রতিদিনই পরিচালিত হচ্ছে অভিযান। জেলেদের জাল আটক করা হচ্ছে এবং জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেলেদের মতোই দুর্দিন পার করছে বরিশালের ইলিশ মোকামের শ্রমিকরা। এই ২২ দিনে তারা সরকার কিংবা কোনও পক্ষ থেকেই সাহায্য পাচ্ছেন না। ফলে আয়ের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ইলিশ শ্রমিক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই সময়ে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় আমাদের। কারণ আমরা দিনমজুর। আমরা সরকার কিংবা আড়তদার কারও কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা পাই না। তাই ২২ দিনের এ বেকারত্বের ধকল কাটাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে হয়। ধরাদেনা শোধ করতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে যাই কয়েক মাস। পরিবার-পরিজন, স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে কাটাতে হয় মানবেতর জীবন। ’
মোকামের শ্রমিক নেতা সোলায়মান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের দুরবস্থার বিষয়ে সকলেই সোচ্চার থাকলেও ইলিশ মোকামের শ্রমিকদের বিষয়ে সবাই নীরব।এ সময়ে শুধু মাছ ধরাই নয়, মাছ সরবরাহ, বিপণন ও পরিবহনও বন্ধ থাকে। তাই আমরা চাই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলেদের মতো ইলিশ মোকামের শ্রমিকদের জন্যও খাদ্য ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হোক।’
বরিশালের ইলিশ ব্যবসায়ী সমিতির নেতা অজিত কুমার দাস মনু বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ইলিশ ব্যবসা কেন্দ্র বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদী তীরের ইলিশ মোকামসহ এ অঞ্চলের ইলিশ মোকামগুলোতে ইলিশ-শ্রমিক রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে তারা দুর্দিন পার করছেন। কোনও কাজ নেই। অলস সময় কাটাচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন ধারদেনা করে।’
জেলার মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘মোকাম শ্রমিকদের সাহায্যের বিষয়টা আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে নেই। আমরা শুধু জেলেদের জন্য কাজ করি। শ্রমিকদের বিষয়টা আমাদের হাতে নেই।’








