পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুস সালামের (৫৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ জুলাই) দুপুরে শহরের রাজার হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
আবদুস সালামের বাড়ি বরগুনা শহরের কোরক এলাকায়। পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আবদুস সালাম পিরোজপুর শহরের রাজার হাট এলাকায় একটি বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তার ছেলে ঢাকায় চাকরি করতো। আর স্ত্রী ও দুই মেয়ে পিরোজপুরে থাকতো । মেয়েরা পিরোজপুরে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করার পর পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশুনা শেষে এক মেয়ে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আরেক মেয়ে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছে। সেখানে তারা পড়াশুনা করছে।
কাজী জাহাঙ্গীর আরও জানান, আবদুস সালাম শান্ত স্বভাবের ছিলেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে তার অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার সকাল ৯টায় কলেজে তার (আবদুস সালামের) ক্লাস ছিল। সকাল ৯টায় সে কলেজে না আসায় শিক্ষকরা তার মোবাইল ফোন দেয়। ফোন রিসিভ না করায় বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। এরপরে অধ্যক্ষ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. শুকুর আলী ও ওই বিভাগের প্রভাষক শহীদুল ইসলামকে তার ( সহকারী অধ্যাপক আবদুস সালামের) বাসায় পাঠান। তারা ওই বাসায় গিয়ে দেখতে পান দরজা ভেতর থেকে আটকানো। এরপর ওই শিক্ষকরা দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে দেখেন মশারি টানানো আর আবদুস সালাম রান্না ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় আবদুস সালামের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরে বিস্তারিত জানা যাবে।







