দলের বহিষ্কারাদেশের কোনও কাগজ তিনি হাতে পাননি উল্লেখ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিক) লাঙ্গল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন (তাপস) বলেন,‘আমি ভোটের অপেক্ষায় আছি। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে কারও নির্দেশে মাঠ ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আমার সঙ্গে তৃনমূল জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা রয়েছে। সাধারণ ভোটাররা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে বরিশাল নগরীকে উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও এটা স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই শেষ মুহূর্তে দল নির্বাচন থেকে সরে যেতে বললেও আমি এই মুহূর্তে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যেতে পারি না। কারণ স্থানীয় জনগণের কাছে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছি। এছাড়া ব্যালট থেকে লাঙ্গল প্রতীক তো আর মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনে আছি, এবং আগামী কালও মাঠে থাকব, ইনশাআল্লাহ।
বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তাপস এসব কথা বলেন। তাপস বলেন,‘পুলিশ অনেককে হয়রানি করছে। একটি দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় করা হচ্ছে বলে শুনেছি। তবে আমার দলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়ের খবর এখনো শুনিনি। নির্বাচনি মাঠের যে অবস্থা দেখছি তাতে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দেওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন,‘জনগণ ভোট দিতে পারবে কি পারবে না এ নিয়ে শঙ্কিত। প্রশাসনের ওপর জনগণের একবারেই ভরসা নেই বলেই আমার মনে হয়েছে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে যে সভা হয়েছে তাতে মনে হয়েছে তারা অসহায়। নির্বাচন কমিশনের যে ক্ষমতা তা তারা (নির্বাচন) প্রয়োগ করতে পারছে না। এখানে লোকাল প্রশাসন একটি পক্ষের হয়ে কাজ করছে বলে আমার মনে হচ্ছে।’
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি। এর মধ্যে ১১২ টিকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। বেশির ভাগ কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভোটারদের মনেও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও প্রশাসন যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও ভোট কেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ-র্যাব ও বিজিবি’র সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ভোটাররা যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেজন্য ১২৩টি কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কমতি রাখা হচ্ছে না। আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।







