বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানির গরু জব্ইাকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার জেরে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম অলিউল ঘরামী। আহত হয়েছেন আট জন। বুধবার (২২ আগস্ট) মেহেন্দীগঞ্জের কাজিরহাট থানার বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের বাদল-রতনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
কাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুণ অর রশিদ জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে শাহআলম ঘরামী এবং তার ভাবি শারমিন বেগমকে আটক করেছে। অলিউল ঘরামী ও শাহআলম ঘরামী প্রতিবেশী ও আত্মীয়।
নিহত অলিউল ঘারমী রতনপুর এলাকার মজিদ ঘরামীর ছেলে।
ওসি জানান, বুধবার ঈদুল আজহার নামাজ শেষে বাড়ির সামনে জমির খালে বাঁধানো ঘাটলার কাছে পশু কোরবানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে অলিউল ঘরামির সঙ্গে শাহআলম ঘরামীর বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তা সংঘর্ষে রুপ নিলে কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অলিউল ঘরামিসহ ছয় জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অলিউল ঘরামীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের ভাই রিপন ঘরামী শেবাচিমে বসে সাংবাদিকদের জানান, আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে শাহআলম ঘরামীর পরিবারের সঙ্গে তাদের বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অলিউল ঘরামী ঈদের নামাজ পড়ে বাড়িতে ঢোকার সময় দেখতে পান খালের পাড়ে ঘাটলার কাছে শাহআলম ঘরামীরা পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তখন ঘাটলায় অনেকে গোসল করছিল। তাই তিনি শাহআলম ঘরামীর লোকজনকে অন্য জায়গায় কোরবানির পশু জবাই দেওয়ার জন্য বলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে শাহআলম ঘরামি ও তার সহযোগীরা পশু কোরবানির প্রস্তুতির জন্য হাতে থাকা দা ও ছুরি জাতীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে অলিউল ঘরামিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। অলিউলকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও ৭-৮ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে অলিউলসহ হুমায়ুন ঘরামী (২৮), কামাল হোসেন ঘরামী (৩০), মো. মাসুদ (২৫), শাহগিদ হোসেন (২৪) ও আলমগীর হোসেনকে (৪৪)শেবাচিম হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. দাস রনবীর আহত অলিউলকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের মরদেহ সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম।








