বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে চান্স পেলেও অর্থের অভাবে ভর্তি না হতে পারা রিকশাচলক সেলিম হোসেনের ছেল সাগর হোসেন। বিষয়টি জানার পর সাগরের মেডিক্যালে ভর্তির দায়িত্ব নিয়েছেন বরিশালের রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম-পিপিএম, বিপিএম। সাগরকে মেডিক্যালে ভর্তির নগদ ১৮ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি।
চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজে চান্স পান জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রহমতপুর গ্রামের রিকশাচালক মো. সেলিম হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন। চান্স পেলেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না তিনি। অভাব-অনটনের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে মেডিক্যাল কলেজের মেধাতালিকায় স্থান পেলেও ছেলেকে ভর্তির জন্য দুঃশ্চিন্তা পড়েন সাগরের পরিবার। ভর্তির টাকা কোনওভাবেই জোগাড় করতে পারছিলেন না তার বাবা। এক সময় ছেলেকে ডাক্তার বানানোর আসা ছেড়ে দেন তার বাবা।
এ অবস্থায় লোক মারফতে বিষয়টি জানতে পেরে মেধাবী ছাত্র সাগরের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বরিশালের রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম।
সাগর হোসেন জানান, মেডিক্যালে ভর্তি হতে পেরে তিনি খুশি। তার রোল নম্বর-১৮০৮৬২। তার দুঃশ্চিন্তা কেটে গেছে। ডিআইজি স্যার তার লেখা পড়ার দায়িত্ব নেবেন, এটা তিনি ভাবতেও পারেননি।
ডিআইজির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, পরিপূর্ণ ডাক্তার হতে পারলে তিনি গরীব রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিবেন এটাই তার স্বপ্ন।
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেখানে পরিবারটির আনন্দে থাকার কথা, সেখানে তারা ছিল দুঃশ্চিন্তায়। বিষয়টি জানতে পেরে সাগরের সঙ্গে কথা বলি। এরপর তাকে দেখা করতে বলি। বুধবার সকালে সাগর অফিসে আসলে ভর্তির জন্য আর্থিক সহায়তা দেই। এছাড়া লেখাপড়ার খরচ নিয়ে তাকে দুঃশ্চিন্তা করতে নিষেধ করি।’ সাগরের লেখাপড়া শেষ হওয়া পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে তাকে সহায়তা করা হবে বলে জানান ডিআইজি।







