বরগুনার পাথরঘাটায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা, নিরব প্রশাসন

সুমন সিকদার, বরগুনা
১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৩আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৩

বরগুনা

বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটসহ গ্রামীণ হাট-বাজার এবং পৌর শহরের অলিগলিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। স্থানীয় প্রভাবশালী ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে জাটকা ব্যবসা পরিচালনায় গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট।

এই সিন্ডিকেটের অধিনে পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্যঘাট থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার হচ্ছে শত শত মন জাটকা। মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের তোরজোড় থাকলেও জাটকা নিধন প্রতিরোধে কোনও পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। এই ৮ মাসের মধ্যে ৯ ইঞ্চি ছোট জাটকা ইলিশ পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদফতর। এ আইন অমান্য করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা ২ বছরের জেল অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাটকা ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মৎস্য খ্যাত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ৯ ইঞ্চির কম সাইজের জাটকা ধরা, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ হচ্ছে না। কিছু অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী এখান থেকে দেশের বিভিন্ন মোকামে  জাটকা সরবরাহ করে।

সরেজমিন পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ পাথরঘাটা বাজার ও নিউমার্কেট রোড বাজার ঘুরে দেখা যায়, সেখানে ১৫ থেকে ৩০ জন মাছ বিক্রেতা আছেন। তারা প্রায় সবাই জাটকা ইলিশ বিক্রি করছেন। আবার কিছু অসাধু জাটকা বিক্রেতা নিরাপত্তার কথা ভেবে মোবাইলে যোগাযোগ করে পাথরঘাটা শহরের বাজারগুলোতে বিক্রি না করে গ্রামগঞ্জের বাজারগুলোতে জাটকা ইলিশ বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বাজারে প্রতিদিন গড়ে বড় ইলিশ ৪০ থেকে ৫০ মন এবং জাটকা ১৫ থেকে ২০ মন বিক্রি করা হয়। অনেক সময় কোস্টগার্ড ও উপজেলা মৎস্য প্রশাসন থেকে অভিযান চালিয়ে মাছগুলো জব্দ করা হলেও পরে আবার তারা বিক্রি শুরু করে। সম্প্রতি কোনও অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় প্রতিদিন এখানে কম-বেশি জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এর সঙ্গে কিছু অসাধু আড়ৎদারও জড়িত আছে বলে জানান একাধিক জেলে। তাদের ছত্রছায়ায় এই জাটকাগুলো ধরে মৎস্যবন্দরে এনে বড় মাছের ককসিডে ভর্তি করে পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এবিষয়ে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘আড়ৎদাররা কোনও সিন্ডিকেট তৈরি করেনি। জেলেরা মাছ নিয়ে আসলে কিছু কিছু আড়ৎদার সেগুলো ক্রয় করে। না কিনলে তো জেলেদেরই ক্ষতি হবে।

তিনি আরও বলেন,‘কেউ ইচ্ছে করে জাটকা ইলিশ ক্রয় বা বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত না।’

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহেদ আলী জানান, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত বিশেষ কোনও অভিযান নেই, তবে  আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যহত আছে। কিছু অসাধু জেলে জাটকা শিকার করতে পারে, সে বিষয়ে আরও জোড়ালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম