বরিশালে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই হাসপাতালে। এজন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারই ভরসা। তবে লোকসানের অজুহাতে বেশিরভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে। দু-একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরীক্ষা করালেও তারা সরকার নির্ধারিত ফি ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৯০০ থেকে হাজার টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শেবাচিম সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুলাই থেকে রবিবার (৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুত আক্রান্ত ২৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১০ জন। আর মারা গেছেন তিন জন।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীদের ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি রবিবার সকাল পর্যন্ত। এনএস-ওয়ান কিট না থাকায় পরীক্ষা করতে পারছে না শেবাচিম কর্তৃপক্ষ। দেশে এই কিট পাওয়া যাচ্ছে না বলে দায় এড়িয়ে যান শেবাচিমের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বরিশাল ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতির এক নেতা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার একটি ডিভাইসের দাম পড়ে ৭৫০ টাকা। সেখানে ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করায় এনএস-ওয়ান কিট সংগ্রহের আগ্রহ নেই কারও। সরকার কম দামে ডিভাইস সরবরাহ করে এরপর দামটা নির্ধারণ করলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতো না বলে তিনি দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার জানা মতে বরিশাল নগরীর দু-একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট রয়েছে। আর যাদের নেই তাদেরকে ঢাকা থেকে সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় এক ব্যবসায়ী এক লাখ কিট এনেছেন। তার ঠিকানাও ডায়াগনস্টিক মালিকদের সরবরাহ করা হয়েছে। তারপরও তারা যদি সরকারের নির্দেশ না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকটকালে রি-এজেন্ট না থাকার অজুহাতে যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ডেঙ্গু পরীক্ষা করছে না তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








