গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ১৯৭১ সালের খুনিরা, ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের খুনিরা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার খুনিরা একই গোত্রের এবং একই শ্রেণির মানুষ। তাই এই খুনিদের দ্বিতীয় প্রজন্ম যেন জেগে উঠতে না পারে, সেজন্য মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকালে পিরোজপুরের নাজিরপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার জন্য তখনকার সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ব্যক্তি হয়েও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছিলেন। একজন রাষ্ট্রপতিকে হত্যার জন্য কর্নেল ফারুক, রশিদ, ডালিমদের উৎসাহ দিয়ে জিয়াউর রহমান অপরাধ করেছেন। এসব খুনিকে পরবর্তীতে পুরস্কৃত করে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করার জন্য সংসদে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যাস বিল পাস করেছেন। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করলে পরবর্তীতে অপরাধীরা আর উৎসাহ পেতো না। ইতিহাসের নির্মম পরিহাস জিয়াউর রহমানকেও হত্যার শিকার হতে হলো। ’
গণপূর্তমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে ৭১-এর খুনিদের, বঙ্গবন্ধু’র খুনিদের, জেলে চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েও তার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার করতে পারেন নি। ছেলে তারেক রহমান হাওয়া ভবন তৈরি করে, ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতা হয়েও পিতার হত্যার বিচার করতে পারলেন না। বরং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে তার স্বামীর মতো ৭১ এর স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে পুনর্বাসন করেছেন। কিন্তু ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতিতে আজ খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে,২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন। তার ছেলে তারেক রহমান বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ৭৫ সালে নিষ্ঠুরভাবে খুন করে একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা আমাদের দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালনা করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিল। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া তাদের শাসন আমলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তথা স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা বিকৃত করার নানা কূটকৌশল চালিয়েছেন। তাই মুক্তিযুদ্ধের বর্ণাঢ্য ইতিহাস আজ নতুন প্রজম্মকে জানিয়ে তাদেরকে আগামী দিনের নেতৃত্ব দানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।’
নাজিরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুদ্দিন বাদশার সভাপতিত্বে ও দীর্ঘা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম আকনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হাকিম হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান মলেক, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার অমুল্য রঞ্জন হালদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম বেলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজত করা হয়।








