ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ আহরণ, বিক্রি ও ক্রয়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ভোলার চরফ্যাশন তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলায় ইলিশ কেনার অভিযোগে চার ক্রেতাকে ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও ১৭ জেলেকে জেল ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ট্রলারসহ ৬২ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।
মা ইলিশ রক্ষায় চলমান নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার বিকালে চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানা এলাকার একটি খালে ট্রলার ভিড়িয়ে মা ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছিলো। এমন খবর পেয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, এফভি রাজিয়া সুলতানা নামে একটি ট্রলারে ৬শ’ টাকা হালি দরে ইলিশ বিক্রির খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে উপস্থিত হয়। টের পেয়ে তারা ট্রলার নিয়ে উপজেলার মায়া ব্রিজ সংলগ্ন খালে গা ঢাকা দেয়। পুলিশ সেখান থেকে মাছসহ ট্রলারটি আটক করে। সেখান থেকে প্রায় বিশ মন ইলিশ ছিল। জব্দ মাছ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ১২টি এতিমখানা ও হাফেজী মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে। আটক ট্রলারটি দুলারহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির জিম্মায় রাখা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চারটি মা ইলিশ কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় আমির হোসেন, কাশেম, রাকিব ও জসিম নামের ৪ ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের বাড়ি উপজেলার নুরাবাদ ও আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নে।
দুলারহাট থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, দণ্ডিত ৪ জনকে হাজতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভোলার তজুমদ্দিনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৯ জেলেকে আটক ও জেল-জরিমানা করেছে প্রশাসন। এ সময় ২০ হাজার মিটার জাল, ২টি নৌকা ও মাছ আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের জেল জরিমানা দেওয়া করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মু. মাহফুজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ভর তার ও কোস্টগার্ড কমান্ডার হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে কোস্টগার্ডের একটি দল মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালায়। এ সময় লালমোহনে মেঘনার সর্দারের খাল নামে এলাকায় মাছ ধরার সময় ৯ জেলেসহ একটি নৌকা, ২০ হাজার মিটার জাল ও প্রায় ২০ কেজি ইলিশ আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ৫ ধারায় ৮ মৎস্যজীবীকে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক শিশু জেলেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জাকির হোসেন, করিম, আকবর হোসেন, মো. শাহিন, মাইনুদ্দিন, ফিরোজ, শরীফ, মো. নোমান ও মো. রাজিব। আটক জেলেদের প্রত্যেকের বাড়ি লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কুণ্ডের হাওলা গ্রামে।
অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল একইদিন অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলার ও ২ হাজার মিটার জাল আটক করেন। আটক জাল আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়। মাছগুলো হাফিজিয়া মাদ্রাসার লিল্লাহ বোডিংয়ে বিতরণ করা হয়। নৌকা দুটি জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের জংলারখাল সংলগ্ন মেঘনায় শুক্রবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে ইলিশ মাছ ধরা অবস্থায় ৯ জেলেকে আটক ও ৬ মন ইলিশ মাছ এবং ৪০ হাজার মিটার জাল জব্দ ও ১টি ট্রলার আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বশির আহমেদ। অভিযান পরিচালনার সময় উপস্থিত অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম সাবু, কোস্টগার্ড কন্টিজেন্ট কমান্ডার (সিও) মনপুরা আশরাফুল ইসলাম। আটক ৯ জেলের মধ্যে ৭ জনকে ১বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১ জনকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা ও বয়স কম হওয়ায় ১ ছাত্রকে বেখুসুর খালাস দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দ ইলিশ মাছ উপজেলার ৮টি মাদ্রাসা ও এতিম খানায় বিতরনে করা হয়েছে। ট্রলার ও ইলিশ জালগুলো কোস্টগার্ডের জিম্মায় রয়েছে। জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হবে বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।








