বরগুনায় এক মামলার বাদীকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ইউসুফ ওই সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। রবিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় আদালতের বিচারক এম. জাহিদ হাসান মামলাটি আমলে নেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে আশ্রাব আলীর মেয়ে হাজেরা বেগম বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি একই গ্রামের চুন্নু, মানিক, বেল্লাল, ইমরান, দুলাল ও সাকিলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যার জি/আর নম্বর ৮-/২০১৮। ওই মামলায় হাজেরার ভাই ইউসুফ ভিকটিম। ওই আসামিরা ইউসুফ ও খলিলকে রামদা, ছেনা দিয়ে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেয়। মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ চুন্নু ও মানিক এই দুই জনকে রেখে বাকি আসামিদের অব্যাহতি দেয়। এ ঘটনায় হাজেরা ক্ষুব্ধ হয়ে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলতি বছর ১৩ মে নারাজি আবেদন করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি ফের তদন্তের জন্য বরগুনার সিআইডি পুলিশ কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন।
সিআইডি কর্মকর্তা সিরাজ ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় ইউসুফ, খালিল ও হাজেরাকে তার অফিসে ডেকে নেয়। তখন ওই সিআইডি কর্মকর্তার কার্যালয় আসামিরাও বসা ছিল।
বাদী ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ওই আসামিরা তাকে ও খলিলকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। কিন্তু সিআইডি কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন তাকে শুধু চুন্নু ও মানিক এই কাজ করেছে বলে সাক্ষী দিতে বলে। তিনি রাজি না হলে তাকে রিমান্ডে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন সিরাজ।
ইউসুফের অভিযোগ, ওই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত তার অফিসে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। আমি তার কথা মতো সাক্ষী না দেওয়ায় উত্তেজিত হয়ে আমাকে প্রথমে কিল-ঘুষি মারে। পরে একটি লোহার পাইপ দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটায়। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে খলিল ও হাজেরা আমাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিতে গেলে সাদা পোশাকে ২/৩ জন পুলিশ আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেয়নি। আমাকে বাড়ি যেতে বাধ্য করেছে। আমি আরও অসুস্থ হলে ৩০ অক্টোবর সকালে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হই। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে বরগুনার সিআইডি কর্মকর্তা মো. সিরাজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইউসুফকে সাক্ষী দেওয়ার জন্য আমার অফিসে ডেকে আনা হয়েছে। তার সঙ্গে খলিল ও হাজেরাও ছিল। আমি কেন তাকে মারধর করবো? সাক্ষীকে কেউ মারধর করে? ওর গায়ে এমনিই জখম আছে। এখন আমি কী করতে পারি। আমি বেতাগী এসেছি, বরগুনায় এসে যোগাযোগ করবো।’







